ঘাটাল সফরে শুভেন্দু , রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের মুসলমানদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, তীব্র আক্রমণ মমতাকে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাটাল সফরের দু’দিনের মাথায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘাটালের বন্যা কবলিত এলাকার জন্য অপর্যাপ্ত ত্রাণ, ত্রাণ বিতরণে দলীয় পক্ষপাতিত্ব, শিশুখাদ্য ও পানীয় জলের অভাব এবং গবাদি পশুদের দুর্দশার অভিযোগ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন এবং রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের মুসলমানদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
বৃহস্পতিবার ঘাটালের মিছিলে অংশ নেওয়ার পর এক পথসভায় শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে “বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী” বলে উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বন্যা পরিদর্শনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তু খিঁচ মেরি ফটো।” মেদিনীপুরের মানুষ হিসেবে নিজেদের পরিচয়ের উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম প্রশাসনিকভাবে বিভক্ত হলেও আমরা বীরসিংহের সিংহ শিশু বিদ্যাসাগরের জেলার মানুষ। আমরা সবাই মেদিনীপুরের লোক।”
রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যে চাকরি নেই, শিল্প নেই, রাজ্যকে শেষ করে দিয়েছে।” তিনি ৮২০০ স্কুল এবং ৬৮৮৮টি শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। ঝাড়গ্রামে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে পুলিশ আধিকারিককে দিয়ে উত্তরীয় পরানোর ঘটনাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “দিদি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অপমান করেছেন… চুরির মালগুলো ভাইপোর কাছে পৌঁছে গেছে। বিদ্যাসাগর মহাশয়কে পরানোর জন্য উত্তরীয় কিনতে পারেননি, নিজের গলার ব্যবহৃত উত্তরীয় বিদ্যাসাগর মহাশয়কে পরিয়ে দিয়েছেন তাও পুলিশের হাত দিয়ে।” এই ঘটনার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি করেন।
তৃণমূলকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, “রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের বাঁচাতে হবে তৃণমূলকে। এরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে পিসিমণি ক্ষমতায় থাকবে না।” ঘাটালের সাংসদ দেবকে “চিটিংবাজ” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পার্লামেন্টে সবচেয়ে কম উপস্থিতি দেবের। ভোটের সময় হাঁটু ছেঁড়া জিন্স পরে মানুষকে টুপি পরাতে দেব ঘাটালে আসেন।” তিনি ১৫, ১৬ এবং ১৭ আগস্ট ঘাটালের বন্যা দুর্গতদের জন্য বিজেপি বিশেষ ত্রাণ দেওয়ার ঘোষণা করেন। ১৫ আগস্ট তিনি জলমগ্ন এলাকায় গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন বলে জানান।