শুভেন্দুকে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ করানোর পরামর্শ তৃণমূলের, পাল্টা ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এর খোঁচা বিজেপির

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি-র মধ্যে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ এখন নতুন মোড় নিয়েছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ্যের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প এবং কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। বাঁকুড়ার এক জনসভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় তাঁকে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড করিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “আপনার খুব তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দরকার। আপনার সেই কার্ডের দরকার শুরু হয়ে গিয়েছে।” তৃণমূলের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়ার মাচানতলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সভায় এই মন্তব্য করেন তারাশঙ্কর রায়। তিনি সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করলেও, সম্প্রতি কোচবিহারে বিরোধী দলনেতার উপর হামলার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে এই কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যেহেতু শুভেন্দু অধিকারী প্রায়শই ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তাই তাঁকে এই কার্ড করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলা হয়েছে, তৃণমূলের জেলা সভাপতির মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন। বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রী শেখর দানা তৃণমূল নেতাকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড করানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে অনেক রোগী আসে যাঁরা রাজ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা অন্য রাজ্যে গিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন।” নীলাদ্রী শেখর অভিযোগ করেন যে, বাঁকুড়ার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড নিয়ে গেলে প্রথমেই ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়, যা এই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।