এসআইআর বিতর্কের মাঝেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করল কমিশন

এসআইআর (সোশ্যাল ইনক্লুসিভ রেজিস্টার) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক চলছে, তখনই নির্বাচন কমিশন ২০০২ সালের ২৪টি জেলার ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র কুলপি বাদে বাকি ২৯৩টি কেন্দ্রের তালিকা কমিশনের ওয়েবসাইটে সাধারণের জন্য উপলব্ধ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি-র চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি মানুষকে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার আগে সতর্ক থাকতে বলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ২০০২ সালের পুরোনো তালিকা প্রকাশ করা, এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে একে সংযুক্ত করে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় মৃত, ভুয়ো বা বাসস্থান পরিবর্তন করা ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়। শেষবার বাংলায় এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ২০০২-২০০৪ সালের মধ্যে।
কমিশন গত ৫ তারিখে ১০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। তখন চারটি কেন্দ্রের তালিকা পাওয়া যাচ্ছিল না, যার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি এবং বীরভূমের মুরারই, রামপুরহাট ও রাজনগর ছিল। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়ার পর বীরভূমের তিনটি কেন্দ্রের তালিকা খুঁজে পাওয়া গেলেও, কুলপির তালিকা এখনও ‘নিখোঁজ’। যদি কুলপির ২০০২ সালের তালিকা না পাওয়া যায়, তাহলে কমিশন ২০০৩ সালের খসড়া তালিকার ওপর নির্ভর করবে।
বিহার থেকে শুরু হওয়া এই এসআইআর প্রক্রিয়া এখন অন্যান্য রাজ্যেও চালু হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিহারে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা প্রকাশকে অনেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার একটি প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে দেখছেন।