সহকর্মীকে রেপ কেসে ফাঁসিয়ে ১ কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টা, মুম্বইয়ে ব্যাঙ্ককর্মী গ্রেফতার

ব্ল্যাকমেল এবং তোলাবাজির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মুম্বইয়ের চরকোপ এলাকা থেকে এক মহিলা ব্যাঙ্ককর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই মহিলা তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে ১ কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। চরকোপ পুলিশ এই ঘটনায় আরবিএল ব্যাঙ্কের কর্মী ডলি কোটাককে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডলি কোটাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একজন আইটি পেশাদার এবং তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনা সফল হলে ওই আইটি পেশাদারকে জেলে যেতে হয়। এর পর ডলি কোটাক ওই সহকর্মীর পরিবারের কাছ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ১ কোটি টাকা দাবি করেন। ডলি কোটাক নাকি আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগীর বোনের কাছে এই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন এবং হুমকি দেন যে, টাকা না দিলে এর ফল ভালো হবে না।

অভিযোগ আরও গুরুতর হয় যখন জানা যায়, ডলি কোটাক অন্য ব্যাঙ্ক কর্মীদের সাহায্যে ভুক্তভোগী এবং তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করেন। তিনি ভুক্তভোগীর গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে নিজের নম্বর যুক্ত করেন। এর ফলে তিনি ভুক্তভোগীর অনলাইন ব্যাঙ্কিং তথ্য, জিপিএস লোকেশন, ব্যক্তিগত ছবি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হন।

নির্যাতনের শিকার এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা:
২০২৪ সালের মে মাসে ভুক্তভোগী ডলি কোটাকের নম্বর থেকে একটি হুমকি বার্তা পান, যেখানে লেখা ছিল, “তুমি কখনোই জিততে পারবে না এবং যন্ত্রণায় মরবে। টাকা দাও, নইলে জেলে মরবে…”। এই হয়রানির প্রভাব ভুক্তভোগীর পেশাগত জীবনেও পড়ে। ডলি তাঁর নিয়োগকর্তার এইচআর বিভাগে ইমেল করেন, যার ফলে ভুক্তভোগীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং পরে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। বারবার হয়রানির শিকার হওয়ার পরও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছিল না বলে অভিযোগ।

অবশেষে ভুক্তভোগী বোরিভালি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট চরকোপ পুলিশকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা কোড (BNSS) এর ধারা ১৭৫(৩) অনুযায়ী এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। পুলিশ ডলি কোটাক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের কর্মী প্রমিলা ভাস এবং সাগর কোটাকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনাটি মুম্বইয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।