মধ্যপ্রদেশে দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ! চাঞ্চল্য সিধি জেলায়, ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার

মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় এক ২০ বছর বয়সী দলিত তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে। তরুণী তার বাগদত্তার সাথে একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছিলেন, যেখানে চার যুবক তাদের ঘিরে ধরে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে তরুণীর বাগদত্তাকে মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর তারা ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। কোনোমতে পালিয়ে গিয়ে তরুণী তার বাগদত্তার সাথে পুনরায় মিলিত হন এবং সেমারিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

এই ভয়াবহ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সিধির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) অরবিন্দ শ্রীবাস্তব জানান, অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি এক অভিযুক্তের খোঁজে পাঁচটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করে তল্লাশি অভিযান চলছে। প্রাথমিক তদন্তের পর তরুণীকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি জিতু পতওয়ারি এই ঘটনাকে ‘নারীর প্রতি অপমান এবং মানবতার জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, গত তিন বছরে মধ্যপ্রদেশে ৭,৪১৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে দলিত ও জনজাতি নারীদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। পতওয়ারির মতে, প্রতিদিন গড়ে সাতজন দলিত নারী রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনায় ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।