‘বন্যা মা গঙ্গার আশীর্বাদ…’,-মন্তব্য করলেন মন্ত্রী, গ্রামবাসী বলল, ‘এখানে থেকে দেখান’

উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাট জেলার বন্যা কবলিত একটি গ্রাম পরিদর্শন করতে গিয়ে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী সঞ্জয় নিশাদ বন্যাকে ‘মা গঙ্গার আশীর্বাদ’ বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন। তার এই অসংবেদনশীল মন্তব্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক নারী প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বিরোধী দলগুলোও এর কড়া সমালোচনা করেছে।

গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে গঙ্গা ও যমুনা নদীর জল বৃদ্ধি পাওয়ায় কানপুর, প্রয়াগরাজ এবং বারাণসীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার সঞ্জয় নিশাদ কানপুর দেহাটের একটি গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময়ে তিনি বলেন, নদীর জল বৃদ্ধি পাওয়া আসলে ‘পবিত্র নদীর আশীর্বাদ’। তিনি বলেন, “মা গঙ্গা না ডাকতেই তাঁর সন্তানদের ঘরে এসে তাঁদের পা ধুইয়ে দিয়েছেন। এর ফলে আপনারা সবাই স্বর্গে যাবেন।”

মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই গ্রামের এক বয়স্ক নারী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “মন্ত্রী এবং তার সঙ্গে আসা আধিকারিকদের এই গ্রামে বাস করা উচিত। তাহলেই তাঁরা বুঝতে পারবেন বন্যা কতটা আশীর্বাদের।” ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, “আপনিও গ্রামে থেকে মা গঙ্গার আশীর্বাদ নিয়ে যান।” স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান যে, কানপুর দেহাট দিয়ে আসলে গঙ্গা নয়, যমুনা নদী বয়ে গেছে।

সমাজবাদী পার্টির নেতা শ্রাবেন্দ্র বিক্রম সিং এবং কংগ্রেস নেতা অজয় রাই-সহ বিরোধী দলের নেতারা মন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, এমন অসংবেদনশীল মন্তব্য বন্যা কবলিত মানুষের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মন্ত্রীর সাফাই:

বিতর্ক শুরু হওয়ার পর সঞ্জয় নিশাদ তার মন্তব্য থেকে পিছু হটেছেন। তিনি বলেন, তিনি বন্যা কবলিত গ্রামবাসীদের মানসিক জোর দিতেই এই কথা বলেছিলেন, কারণ নদীর জল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মনোবল বাড়ানো।

তবে, এই সাফাই সত্ত্বেও মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।