“ছি…ছি…ছি এনআরসি”- গান লিখে এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর বাঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার শত ব্যস্ততার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও তার সৃষ্টিশীল প্রতিভার পরিচয় দিলেন। এবার তিনি বাংলা ও বাঙালির জন্য রাজনৈতিক প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন গানকে। ঝাড়গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের পাশাপাশি এক বিশাল জনসভায় তিনি এনআরসি-র বিরুদ্ধে নিজের লেখা গান গেয়ে শোনালেন, যার প্রথম কয়েকটি লাইন ছিল, “ছি…ছি…ছি এনআরসি…এই গানটা আমি লিখছি।”

বুধবার ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী একলব্য মোড় থেকে পাঁচমাথা মোড় পর্যন্ত এক বিশাল পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভায় তিনি পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “একসময় ঝাড়গ্রাম ছিল আতঙ্কের জায়গা। গোয়ালতোড়, বেলপাহাড়ি, ঝাড়গ্রামে অস্ত্র ও রক্তের রাজত্ব ছিল। আমি তখনো এখানে এসেছি। ক্ষমতায় আসার পর শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, তৃণমূল সরকার এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছে এবং শান্তি ফিরিয়েছে।

তবে সভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এনআরসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান। তিনি বারবার এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, কিন্তু এবার তিনি তার রাজনৈতিক বার্তাটি গানের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাইলেন। তার এই উদ্যোগ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, তিনি শুধু প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে ক্ষান্ত নন, বরং মানুষের মনকে ছুঁয়ে তাদের ভয় দূর করতে চান।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এনআরসি একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা এনআরসি করতে দেব না। আমার রাজ্যে সবাই শান্তিতে থাকবে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার রাজনীতি আমরা মানি না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নতুন কৌশল দিয়ে সাহিত্য ও সঙ্গীতকে হাতিয়ার করে গণচেতনা জাগাতে চাইছেন। তার লেখা গানটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তৃণমূলের সাংস্কৃতিক শাখা ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিচ্ছে। একজন মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে প্রতিবাদের ভাষা যখন গান হয়ে ওঠে, তখন তা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য থাকে না, বরং সামাজিক বার্তা হয়ে ওঠে। মমতার এই উদ্যোগ আগামী দিনে তৃণমূলের ‘প্রতিরোধের সুর’ হিসেবে কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে।