মহার্ঘভাতা মামলা, অন্য রাজ্যের ডিএ-র হার জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্র ও রাজ্যের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (DA) মামলার শুনানিতে নতুন মোড়। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানতে চাইল, অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মীরা কত হারে ডিএ পান এবং সেই সংক্রান্ত কোনো উদাহরণ আছে কি না। কর্মচারী সংগঠনের আইনজীবীরা এই সংক্রান্ত উদাহরণ দিতে রাজি হয়েছেন।

বুধবার ছিল এই মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি। এর আগের দিন রাজ্য সরকারের বক্তব্য শোনার পর, বুধবার কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম কর্মীদের অবস্থান তুলে ধরেন। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি পি.কে. মিশ্র জানতে চান, “অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মীরা কি বেশি ডিএ পান? দিল্লির বঙ্গভবন বা চেন্নাইয়ে কর্মরত রাজ্যের কর্মীরা বেশি ডিএ পান কি? তেমন হলে উদাহরণ দিন।” জবাবে আইনজীবী বলেন, “নিশ্চয়ই, আমাদের কাছে উদাহরণ আছে।”

বিচারপতি মিশ্র এও জানতে চান যে, দিল্লি বা চেন্নাইয়ের কর্মীদের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল কি না, যার জবাবে আইনজীবী ‘সম্ভবত না’ বলে জানান। এরপর বিচারপতি বলেন, “তার মানে আপনারা বেশ কিছু সময় ধরেই প্রাপ্য ডিএ পাচ্ছেন না?” আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম জানান, মাঝে সামান্য কিছু ডিএ দেওয়া হয়েছিল।

আদালত এদিন অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আমরা বোঝার চেষ্টা করছি যে, AICPI শুধুমাত্র হিসেবের একটি প্রক্রিয়া, না কি এর অর্থ কেন্দ্রীয় হারে ডিএ। AICPI অনুসারেই রাজ্যগুলিকে ডিএ-র হিসেব করতে হবে কি না, সেটাই এই মামলার মূল বিষয়।” তিনি রাজ্যকে কটাক্ষ করে বলেন, “আগেকার মহাজনদের মতো অর্থ সঞ্চয় করে রাখছে রাজ্য, যাতে সেটা অন্যত্র খাটানো যায়।”

অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “কিছু কর্মচারীকে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিচ্ছে রাজ্য, যার অর্থ রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম মেনে চলছে।” এর আগের দিন রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে তারা বাধ্য নয় এবং ডিএ কোনো মৌলিক অধিকার নয়। বিচারপতি সঞ্জয় কারোলও জানান, ডিএ মৌলিক অধিকার কি না, তা নিয়ে তাঁদেরও সন্দেহ আছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই আদালত এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেবে।