ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শিল্পীরা, পুজোর আগে প্রতিমা তৈরি নিয়ে অনিশ্চয়তা! প্লাস্টিক ত্রিপলের ভরসায় ‘মা’

এই বছর দুর্গাপুজো কিছুটা এগিয়ে আসায় প্রতিমা তৈরির কাজ এখন তুঙ্গে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে চরম সমস্যায় পড়েছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। বিশেষ করে নদিয়ার ফুলিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন পাল পাড়ায় জল জমে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। শিল্পীরা কোনোমতে ত্রিপল খাটিয়ে প্রতিমাগুলোকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
ফাল্গুন-চৈত্র মাস থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। দুর্গাপ্রতিমার কাঠামো তৈরি, বিচুলি বাঁধা এবং মাটি লাগানোর প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হলেও, টানা বৃষ্টিতে মাটি শুকোচ্ছে না। এতে পরের ধাপের কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। দুর্গাপূজা আসতে আর মাত্র ৫০ দিনের মতো বাকি। এই পরিস্থিতিতে শিল্পীরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
ফুলিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন পাল পাড়ায় প্রায় ২০-২৫টি মৃৎশিল্পী পরিবার বসবাস করে। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চারিদিকে জল জমে যাওয়ায় শ্রমিকরা কাজে আসতে পারছেন না। একইসঙ্গে, হাঁটু জল ভেঙে পুজোর আয়োজকরাও প্রতিমার অর্ডার দিতে আসতে চাইছেন না। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সময়মতো কাজ শেষ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই সমস্যার জন্য অনেক শিল্পী ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় জাতীয় সড়কের সমস্ত জল আন্ডারপাস দিয়ে এসে পাল পাড়ার ডোবায় জমা হচ্ছে। সেই ডোবা উপচে নোংরা জল এখন শিল্পীদের বাড়ির মধ্যেও ঢুকে পড়েছে। এতে শুধু প্রতিমা তৈরির কাজই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং এই নোংরা জল ভেঙে যাতায়াত করার ফলে অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন বাসিন্দারা।
দুর্গাপূজার পাশাপাশি বিশ্বকর্মা পূজার মূর্তি তৈরির কাজও এই বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিল্পীরা আরও বড় সংকটের মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।