দিনের আলোতেও রাতের অন্ধকার, ‘ভূতুড়ে ঘরে’ই মিড ডে মিল রান্না! আতঙ্কে অভিভাবকরা

দিনের বেলায়ও প্রায় অন্ধকার, ছাদ থেকে খসে পড়ছে কংক্রিট আর দেওয়ালের পলেস্তারা। মালদহের বামনগোলা ব্লকের চাঁদপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের টুকিপাড়া এলাকার আইসিডিএস সেন্টারের এমনই বেহাল দশা। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতেও দিদিমণি ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের জন্য নিয়মিত মিড-ডে মিল রান্না এবং পড়াশোনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আইসিডিএস কেন্দ্রটি এতটাই জরাজীর্ণ যে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির জল পড়ে এবং পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত। বারবার পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে গেলেও সংস্কারের কোনো কাজ শুরু হয়নি।
এক গ্রামবাসী জানান, “আইসিডিএস সেন্টারের এই অবস্থায় আমাদের শিশুদের এখানে পাঠাতে ভয় লাগছে। যেকোনো সময় ছাদ ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” তাই গ্রামবাসীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য এবং শিশু কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এই আইসিডিএস সেন্টারের পরিস্থিতি স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলেছে। এই বিষয়ে মালদহ জেলা আইসিডিএস প্রকল্প আধিকারিক অজয় কুমার বড়ুয়া জানিয়েছেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত এটি খতিয়ে দেখে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।”
আইসিডিএস কেন্দ্রটি শিশুদের পুষ্টি ও প্রারম্ভিক শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি কেন্দ্রে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা ও খাবার খেতে আসাটা সমাজের জন্য একটি বড় প্রশ্ন। এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।