বিশেষ: ১৩ বছরের ছোট শ্রীদেবীর প্রেমে পড়েছিলেন রজনীকান্ত, অবশেষে কুসংস্কারই কাল হল?

বলিউডের ‘চাঁদনি’ শ্রীদেবী আজও তার অসাধারণ অভিনয় এবং সৌন্দর্য দিয়ে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। বিশেষ করে ‘চালবাজ’ ছবিতে তার দ্বৈত চরিত্র এবং দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, পর্দার বাইরেও তাদের দুজনের মধ্যে এক গভীর সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর অনুযায়ী, শ্রীদেবীর সঙ্গে কাজ করার শুরুর দিনগুলো থেকেই রজনীকান্ত তার প্রতি আকৃষ্ট হন। তামিল, তেলেগু এবং হিন্দি ছবিতে তাদের রসায়ন এতটাই জোরালো ছিল যে, দর্শকরা তাদের প্রিয় জুটি হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। রজনীকান্ত, যিনি শ্রীদেবীর চেয়ে ১৩ বছরের বড়, তাকে সত্যিই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এই বিষয়ে একসময় তাদের দুজনেরই অন্যতম সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা কে. বালচন্দ্র মুখ খুলেছিলেন।
প্রেমের গল্পে কুসংস্কারের বাধা:
বালচন্দ্রর মতে, একবার রজনীকান্ত শ্রীদেবীর বাড়িতে একটি হাউজ পার্টিতে গিয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যখন তিনি শ্রীদেবীর বাড়ির দরজায় পৌঁছান, তখন হঠাৎ করেই বাড়ির আলো নিভে যায়। রজনীকান্ত ছিলেন ভীষণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তিনি এটিকে একটি অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে মনে করেন এবং তার ভালোবাসার কথা না বলেই চুপচাপ ফিরে আসেন। এরপর তিনি আর কখনোই নিজের অনুভূতি নিয়ে শ্রীদেবীর সঙ্গে কথা বলেননি। এই ঘটনাই হয়তো তাদের ভালোবাসার গল্পের ইতি টেনে দেয়। পরবর্তীতে, শ্রীদেবী ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরকে বিয়ে করেন।
পেশাগত সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা:
শ্রীদেবী মাত্র ১৩ বছর বয়সে তামিল ছবি ‘মুন্ড্রু মুদিচু’ দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখেন, যেখানে তিনি রজনীকান্তের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এটি তাদের দুজনের জন্যই একটি বড় সাফল্যের ছবি ছিল। বাস্তব জীবনেও শ্রীদেবী এবং রজনীকান্ত একে অপরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। অভিনেতার শ্রীদেবীর মায়ের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একবার ‘রানা’ ছবির শুটিং চলাকালীন রজনীকান্ত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, শ্রীদেবী তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সাত দিন উপবাস করেছিলেন।
২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইতে শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যু হয়, যা পুরো চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া ফেলেছিল। শ্রীদেবী এবং রজনীকান্তের এই না বলা ভালোবাসার গল্পটি আজও তাদের অনুরাগীদের কাছে এক অজানা অধ্যায় হয়ে রয়েছে।