বাংলায় ‘হারিয়ে যাওয়া’ ভোটার কার্ডের খোঁজে কমিশন, সাসপেন্ড ৪ আধিকারিক! রাজ্য জুড়ে হিসাব তলব

ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও কেন ভোটদাতারা তাঁদের কার্ড নিচ্ছেন না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) দফতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসংখ্য ভোটার কার্ডের বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে বাংলার ৪ জন নির্বাচনী আধিকারিককে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

অদৃশ্য ভোটার, পড়ে থাকা কার্ড

উত্তর ২৪ পরগণার একটি ইআরও দফতরে প্রায় ৩০০টি ভোটার কার্ড বিলি না হয়ে পড়ে আছে। কমিশনের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও কার্ডগুলি নেওয়ার মতো কেউ নেই। এই ধরনের ঘটনা শুধু একটি জায়গায় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ঘটছে বলে কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কার্ডগুলি পড়ে আছে। সম্প্রতি ভুয়ো ভোটারের তদন্ত চলাকালীন এই বিষয়টি কমিশনের নজরে আসে। এরপরই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে জেলাশাসকদের থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।

কারচুপির অভিযোগে ৪ আধিকারিক সাসপেন্ড

অন্যদিকে, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তকরণে গুরুতর কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন বাংলার ৪ জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার জন্য মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে। এই ৪ জনের মধ্যে দুজন ইআরও (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) এবং দুজন এইআরও (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) রয়েছেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন বারুইপুর পূর্বের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও তথাগত মণ্ডল এবং ময়নার এইআরও বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।