কাজে গাফিলতি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে চার আধিকারিক সাসপেন্ড

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে গাফিলতি এবং গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যের চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার মুখ্যসচিবের কাছে এই মর্মে চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুজন ইআরও (ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) এবং দুজন এইআরও (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-কে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর দায়ের করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চার আধিকারিক তাদের কাজে গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের লগইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড কিছু অনাঙ্খিত ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার সময়ও তারা বেশ কিছু ভুল তথ্য আপলোড করেছেন। কমিশন এই ধরনের কাজকে অপরাধমূলক বলে অভিহিত করেছে।
সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকরা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং এইআরও তথাগত মণ্ডলকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এইআরও সুদীপ্ত দাসকেও সাসপেন্ড করে তদন্ত শুরু করার কথা বলা হয়েছে। এই চারজনের পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।
১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত রাজ্যের কর্মীরা ডেপুটেশনে কমিশনের কর্মী হিসেবেই গণ্য হন। তাই কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। অপরাধ প্রমাণিত হলে তিন মাস থেকে দু’বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই কথাও চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ ভোটার তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।