অনাহারে মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, বাঁকুড়ায় ত্রাণ পেল মোদক পরিবার

অনাহারে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল স্থানীয় প্রশাসন। বাঁকুড়ার কুমিদ্যা গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী বৈদ্যনাথ দাস মোদকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে দ্রুত চালু করা হয়েছে পরিবারের রেশন কার্ড, যার ফলে মঙ্গলবারই খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

গত শুক্রবার ১ আগস্ট বৈদ্যনাথ দাস মোদক মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন তারা। কারণ, স্ত্রী কল্পনার আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযোগ না থাকায় তাদের রেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একসময় মিষ্টির দোকানের কর্মী বৈদ্যনাথ অসুস্থতার কারণে কাজ হারান। পরিযায়ী শ্রমিক ছেলে সোমনাথের সামান্য আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এর ফলে প্রায়শই না খেয়ে থাকতে হত পরিবারটিকে।

ইটিভি ভারতের একটি প্রতিবেদনে এই খবর সোমবার প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। তড়িঘড়ি বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা মৃতের বাড়িতে যান। এরপর ৪ আগস্ট ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোদক পরিবারের হাতে জামাকাপড়, শুকনো খাবার, ত্রিপল এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে খাদ্য দপ্তরকে দ্রুত রেশন কার্ড চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মতো মঙ্গলবার আধার কার্ড না থাকা সত্ত্বেও সোমনাথকে দুয়ারে রেশন শিবির থেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “অনাহারে মৃত্যুর বিষয়টি মিথ্যা এবং বানানো গল্প। রাজ্যে অনাহারে মৃত্যুর কোনো পরিস্থিতি নেই।” তিনি উল্টে স্থানীয় সিপিএম ও বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছেন। অপরদিকে, বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রীশেখর দানা এই অভিযোগকে “মিথ্যাচার” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

যদিও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে, মোদক পরিবার অবশেষে আশার আলো দেখছে। মৃত বৈদ্যনাথের ছেলে সোমনাথ বলেছেন, “খবরের জেরে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। তারা ঘর ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এখন নিয়মিত রেশন পাব। মা’রও আধার কার্ড এবং ভাতা চালু হলে অনেক সুবিধা হবে।” এই আশ্বাসে বৃদ্ধার মুখে হাসি ফুটেছে, কারণ এখন অন্তত দুমুঠো ভাত জুটবে। তবে, অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, অনাহারে মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার আগে কেন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়নি।