দুই বিধানসভায় ১০২ ভুয়ো ভোটার, ERO-দের তলব, FIR-এর পথে কমিশন

বারুইপুর ও ময়নার পর এবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার এবং উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভাতেও ভুয়ো ভোটারের সন্ধান মেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মোট ১০২ জন ভুয়ো ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় কীভাবে এল, তা জানতে চেয়ে দুই বিধানসভার দায়িত্বে থাকা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (ERO) সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) দফতরে তলব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, গাফিলতি প্রমাণিত হলে ERO-দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি সংশ্লিষ্ট ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নন্দকুমার বিধানসভায় ৫৯ জন এবং রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভায় ৪৩ জন ভোটারের ক্ষেত্রে এই অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সমস্ত ভোটারদের তথ্য যাচাই করার জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) পাঠানোই হয়নি। কমিশনের আধিকারিকরা মনে করছেন, নন্দকুমার ও রাজারহাট-গোপালপুরের দায়িত্বে থাকা ERO-রা তাঁদের নিজেদের আইডি শেয়ার করেছিলেন এবং অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণের কাজে এই দুই ERO সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই দুই ERO-র বিরুদ্ধে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে নালিশ করা হয়েছে এবং কমিশন তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে জল্পনার মধ্যেই ঘটল, যা স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এর আগে বারুইপুর ও ময়নার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভুয়ো ভোটারের হদিশ মিলেছিল এবং সেক্ষেত্রেও ERO-দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বারংবার এমন ঘটনা ঘটায় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।