“যদি আমার EPIC নম্বর পরিবর্তন করা হয়, তাহলে….?”-নতুন প্রশ্ন বিহারের তেজস্বী যাদবের

রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) শীর্ষ নেতা এবং বিহারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব তাঁর ভোটার আইডি কার্ডের (EPIC) নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এটিকে একটি “ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এর ফলে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

শনিবার লালুপুত্র তেজস্বী যাদব বলেন, “যদি আমার EPIC নম্বর পরিবর্তন করা যায়, তাহলে কত লোকের EPIC নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে? আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করছি। এটি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র।” তিনি এই বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং এটিকে কেবল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তেজস্বীর এই মন্তব্যের পর বিহারের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো তেজস্বীর সমর্থনে সুর চড়িয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। যদিও, শাসক দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আগের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা:
উল্লেখ্য, এর আগে তেজস্বী যাদব অভিযোগ করেছিলেন যে শুক্রবার বিহার নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে তাঁর EPIC নম্বর RAB2916120 দিয়ে সার্চ করলে কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

তবে, এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দ্রুত স্পষ্ট করে জানায় যে, তেজস্বী যাদবের নাম তাঁর ছবি, বয়স, বাবার নাম এবং বাড়ির নম্বর সহ তালিকাভুক্ত রয়েছে।

ডিএম ডঃ ত্যাগরাজনের প্রতিক্রিয়া:
তেজস্বী যাদবের অভিযোগের বিষয়ে পাটনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ডঃ ত্যাগরাজন এসএম বলেন, “বিরোধী দলনেতার নাম অবশ্যই আছে। তাঁর নাম নেই – এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল। তিনি যে বুথে ভোট দিতেন, সেখানে এখনও তাঁর নাম রয়েছে। সকলেই এটি দেখতে পারেন। আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে পাটনা জেলার সমস্ত ভোটারদের একটু ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করা হচ্ছে। আপনারা খসড়ায় আপনার নাম বা EPIC নম্বর দিয়ে দেখতে পারেন। তাই এতে কোনও বিভ্রান্তি নেই।” ডিএম আরও বলেন, “২০২০ সালের নির্বাচনে মনোনয়নের সময় তিনি (তেজস্বী) যে হলফনামা দাখিল করেছিলেন, তাতে তিনি এই EPIC নম্বরই দিয়েছিলেন, এটিই আমরা বলছি। এখন, তিনি যদি অন্য কোনও EPIC কার্ড দেখেন, তাহলে আমাদের এটি দেখতে হবে। তিনি ২০২০ সালের EPIC কার্ডের ভিত্তিতে ২০২০ সালেও মনোনয়ন দাখিল করেছেন এবং সেটি এখনও রয়েছে। এতে কোনও পরিবর্তন নেই।”

EPIC নম্বর প্রতিটি ভোটারের জন্য একটি অনন্য পরিচয় কোড। এতে কোনো পরিবর্তন হলে ভোটারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তেজস্বীর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।