অল্পের জন্য এড়ানো গেল বড় ট্রেন দুর্ঘটনা, ঝাড়খণ্ডে রেল লাইন ওড়াল মাওবাদীরা

ফের মাওবাদী তাণ্ডবে উত্তপ্ত হলো ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুর ডিভিশন। শুক্রবার (৩রা আগস্ট) সকালে মাওবাদীরা রাংরা-করমপাড়া রুটে রেললাইন উড়িয়ে দিয়েছে। শক্তিশালী বিস্ফোরণে রেললাইনের স্লিপারগুলি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে মাওবাদী পতাকা ও ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তবে লোকো পাইলটের বিচক্ষণতায় একটি বড় রেল দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে রেললাইনের স্লিপারগুলি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আরপিএফ (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স) এবং ওড়িশা পুলিশ। তারা যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠন। তাদের সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজ ওরফে নাম্বালা কেশবরাওয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে ৩রা আগস্ট পাঁচটি রাজ্যে বনধের ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে যৌথ বাহিনীর গুলিতে বাসবরাজ নিহত হন। ২৮শে জুলাই থেকে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত সিপিআই মাওবাদীরা ‘শহিদ সপ্তাহ’ পালন করছে, যার শেষ দিনেই এই বনধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তর ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম – এই পাঁচটি রাজ্যে এই বনধ পালিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১শে মে ছত্তিশগড়ের বস্তার ডিভিশনের নারায়ণপুর জেলার জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে ২৮ জন সঙ্গী সহ নিহত হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত ইন্ডিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজ। ১৯৭০ সাল থেকে নকশাল আন্দোলনের অংশ ছিল সে এবং সারা দেশে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাকে খুঁজছিল। বাসবরাজের মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই মাওবাদীরা এই ধরনের নাশকতা চালাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।