‘হীরক রানি’ গান নিয়ে বিতর্ক, শিল্পীকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটানোর হুমকি উদয়ন গুহের, পাল্টা আক্রমণে বিজেপি

মুখ্যমন্ত্রীকে ‘হীরক রানি’ বলে গান গাওয়ার ঘটনায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহের ‘ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটানোর’ মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। উদয়ন গুহ শনিবার বলেন, “স্বাধীনতা আছে বলে যা খুশি তাই করা যায় না।” এই মন্তব্যের পরই বিতর্কের ঝড় উঠেছে এবং বিজেপি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে।

মাথাভাঙার বাসিন্দা লোকসংগীত শিল্পী মনীন্দ্র বর্মন, যিনি এই বিতর্কিত গানটি গেয়েছেন, তিনি জানিয়েছেন যে গানটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি হুমকি পাচ্ছেন। এর আগেও চাকরিহারা শিক্ষকদের নিয়ে গান গেয়ে মনীন্দ্র পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছিলেন এবং বেশ কিছুদিন তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছিল বলে অভিযোগ। এবার রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এবং নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে গান লিখে ও গেয়ে তিনি নতুন করে বিপাকে পড়েছেন।

উদয়ন গুহের বিতর্কিত মন্তব্য:
উদয়ন গুহ এদিন কড়া ভাষায় বলেন, “এর আগেও সে (মনীন্দ্র) একটা গান গেয়েছিল, তখন বলেছিল এটা সংস্কৃতি। এটা ওনার অধিকারের মধ্যে পড়ে। তবে আমি জানি না, একজন মুখ্যমন্ত্রীকে যে কোনো ভাষায় গালাগালি কটূক্তি করে গান বেঁধে সেই গান গেয়ে বেড়ানো সেটা যদি আমার স্বাধীনতা হয়; তাহলে এমনও তো হতে পারে অনেক যুবকের এই গান শোনার পর মনে হল গায়ককে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটাব সেটাও সেই যুবকদের স্বাধীনতা হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে পড়লে, ও যেই ভাষায় গান করেছে, সেই ভাষাতেই উত্তর দেব।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপির পাল্টা আক্রমণ:
উদয়ন গুহের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি উদয়ন গুহকে আক্রমণ করে বলেন, “উদয়ন গুহ আগামী নির্বাচনে হারলে কে কে যে পেটাবে ঠিক নেই। বাড়ির লোকই হয়ত তাকে আর বাড়িতে রাখবে না। বাড়ি থেকে বের করে দেবে।” সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে, শিল্পী মনীন্দ্র বর্মন তার সমাজমাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, “গানটি সোশাল মিডিয়ায় আসার পর থেকেই ডিলিট করার জন্য ধমক দেওয়া হচ্ছে।” এই ঘটনা বাক স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধীদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর বাড়ছে, যা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।