চাঞ্চল্যকর রায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাতি প্রজ্জ্বল রেভান্নার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১১ লাখ টাকা জরিমানা

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়ার নাতি এবং প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্জ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলায় আজ এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছে আদালত। মাইসুরুর একটি আদালত প্রজ্জ্বল রেভান্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। এই জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ নির্যাতিতা পাবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন অশ্লীল ভিডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টির মাত্র ১৪ মাসের মধ্যেই এই মামলার রায়দান সম্পন্ন হলো, যা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার এক নজিরবিহীন উদাহরণ।

প্রজ্জ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে মাইসুরুর কে আর নগরের বাসিন্দা এক পরিচারিকাকে দু’বার ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করার গুরুতর অভিযোগ ছিল। কর্ণাটক পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখা এবং সিআইডি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করে এবং আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করে।

কীভাবে ফাঁস হলো ঘটনা?
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কর্ণাটকের হাসান কেন্দ্র থেকে জনতা দল (সেকুলার)-এর প্রার্থী ছিলেন প্রজ্জ্বল। নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে থাকার সময়ই একটি পেনড্রাইভ থেকে তাঁর একাধিক অশ্লীল ভিডিও ফাঁস হয়ে যায়, যা রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে প্রজ্জ্বল এই ভিডিওগুলিকে জাল বলে দাবি করে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করলেও, পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়। ২০২১ সালের করোনাভাইরাস লকডাউনের সময় এই ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যখন প্রজ্জ্বল তাঁর ৪৮ বছর বয়সী পরিচারিকাকে ধর্ষণ করেছিলেন। নির্যাতিতা মহিলা হাসান জেলার হোলেনারাসিপুরা গ্রামীণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।

দ্রুত বিচার ও ফরেনসিক প্রমাণের গুরুত্ব:
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়েছিল। আদালত দ্রুততার সঙ্গে সাক্ষীদের বয়ান গ্রহণ করে এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) থেকে অশ্লীল ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট সংগ্রহ করে। একই সাথে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেও গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট দেন। বিচার প্রক্রিয়ায় এই দুটি ফরেনসিক রিপোর্টই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে।

এই রায় কর্ণাটকের রাজনীতিতে এক বড় ধাক্কা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যের এমন গুরুতর অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঘটনা বিরল এবং এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও দ্রুততাকেও তুলে ধরল। এই রায়ের মাধ্যমে নির্যাতিতা বিচার পেলেন এবং সমাজের উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিদেরও যে আইনের ঊর্ধ্বে নন, সেই বার্তাও স্পষ্ট হলো।