পার্ক সার্কাস স্টেশন থেকে দখলদার সরাতে ব্যর্থ রেল, কাঠগড়ায় রাজ্য সরকার!

কলকাতা পার্ক সার্কাস রেল স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ দখলদারদের সরাতে রেল কর্তৃপক্ষের বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও অভিযান সফল হচ্ছে না। এই ব্যর্থতার জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের এক প্রশ্নের জবাবে রাজ্যসভায় লিখিতভাবে রেলমন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন।
রেল মন্ত্রকের কাছে শমীক ভট্টাচার্য জানতে চেয়েছিলেন, পার্ক সার্কাস স্টেশনকে দখলদারমুক্ত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর উত্তরে শুক্রবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ পার্ক সার্কাস রেল স্টেশনে দখলদার উচ্ছেদের জন্য অভিযান চালালেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এই কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। ফলস্বরূপ, এই উচ্ছেদ অভিযান সফল হয়নি। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ফুটপাথগুলোও হকারদের দখলে থাকায় যাত্রীদের যাতায়াতে চরম সমস্যা হচ্ছে।
রেলমন্ত্রীর লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “দখলদারদের উচ্ছেদ করতে পার্ক সার্কাস রেল স্টেশনে সময়ে সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় রেল। কিন্তু রাজ্য সরকার এই কাজে সাহায্য করেনি। ফলে অভিযান সফল হয়নি।”
যাত্রী সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা: রেলের দায়বদ্ধতা
দখলদার ইস্যুর পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষা এবং স্টেশন চত্বরের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কথা বলেন রেলমন্ত্রী। তিনি জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় রেল সর্বদা সাড়া দেয়। স্টেশনগুলিতে রেলের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী (আরপিএফ) মোতায়েন থাকে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সময়, স্থান এবং হুমকির প্রকৃতি বিবেচনা করে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আরপিএফ মোতায়েনের বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় এবং সরকারি রেল পুলিশ (জিআরপি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
স্টেশন চত্বরের পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে বৈষ্ণব বলেন যে এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। স্টেশন চত্বরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে রেল মন্ত্রক একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ফেলার জন্য আলাদা ডাস্টবিন স্থাপন, উন্নত জল নিকাশি ব্যবস্থা এবং ঘন ঘন স্টেশন পরিষ্কারের কাজ। এছাড়াও, ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ প্রকল্পের আওতায় শৌচালয়গুলি পরিষ্কার রাখার কাজও নিরন্তর চলছে।
রেল মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রেলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।