হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার-অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার অপসারিত, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ, দায়িত্বে ডেপুটি সিএমওএইচ-১

কর্তব্যে গাফিলতি এবং হাসপাতালের অব্যবস্থার গুরুতর অভিযোগের জেরে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ডেপুটি সিএমওএইচ-১ নারায়ণ মিদ্যাকে। শুক্রবার হলদিয়া হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের অসন্তোষের চূড়ান্ত পরিণতি
শিল্পতালুক হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের কাজে দীর্ঘদিনের তীব্র অসন্তোষ ছিল বলে জানা যাচ্ছে। হাসপাতালের জীর্ণ দশা, অপরিষ্কার শৌচাগার, এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে বারবার অভিযোগ উঠছিল।
সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন আগে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা রাতে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সেই সময় হাসপাতালের বেহাল দশা এবং রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ দেখে জেলাশাসক অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। আজকের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপিত হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, হাসপাতালের সুপার সুভাষ মাহাত এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার অর্ণব মুনিয়ানকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরানো হবে।
প্রশাসনের কড়া বার্তা
প্রশাসন সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কর্তব্যে গাফিলতি করার অভিযোগ রয়েছে অপসারিত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের বিল্ডিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ একাধিক বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল।
এই বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “হলদিয়াতে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক ছিল। সেখানেই সুপারসহ তাদের (অপসারিত সুপার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার) কাজে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দায়িত্ব থেকে সরানোর লিখিত নির্দেশটি স্বাস্থ্য ভবন থেকে আসবে। আপাতত হাসপাতালের বর্তমান দায়িত্বে থাকছেন ডেপুটি সিএমওএইচ-১ নারায়ণ মিদ্যা।
এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, জনস্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নে রাজ্য প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নেতৃত্বে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো ও সেবার মান কতটা উন্নত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।