‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্প শুরু হচ্ছে শনিবার, ভোটের আগে ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে নাগরিক পরিষেবা জোরদারে রাজ্য সরকার

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার আরও একটি জনমুখী প্রকল্প নিয়ে হাজির। আগামীকাল, শনিবার (২রা আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’। ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে শুরু হওয়া এই প্রকল্পকে সফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। শনিবার থেকেই প্রতি তিনটি বুথ নিয়ে একটি করে শিবির আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন, যেখানে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হবে।

১৫টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজ এবং ৮ হাজার কোটিরও বেশি বরাদ্দ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির অধীনে মোট ১৫টি কাজকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। নবান্নের পক্ষ থেকে সম্প্রতি রাস্তা মেরামতির কাজকেও এই কর্মসূচির অধীনে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা।

এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় যে কাজগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেগুলি হলো: নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জল সরবরাহ নিশ্চিত করা, পাড়ায় পাড়ায় রাস্তার আলোর ব্যবস্থা, বুথে বুথে শৌচাগার নির্মাণ, আইসিডিএস কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নয়ন, প্রাথমিক স্কুলগুলির পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, পুকুর ও জলাশয়গুলির সৌন্দর্যায়ন ও ঘাটগুলির সংস্কার এবং বাজারগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বুথভিত্তিক ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে, এই প্রকল্পের অধীনে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা এর ব্যাপকতা নির্দেশ করে। এই ১৫টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজের পাশাপাশি, অন্য কোনো অভিযোগ এলেও তার নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও নবান্নের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

আইএএস অফিসারদের নিবিড় নজরদারি: সুচারু রূপায়ণের লক্ষ্য
‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি সঠিকভাবে রূপায়ণের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যের ৪০ জন সিনিয়র আইএএস অফিসারকে এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই আধিকারিকরা মহকুমা ধরে ধরে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির কাজের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাবেন এবং জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। বিভিন্ন দফতরের প্রধান সচিব, অতিরিক্ত প্রধান সচিব সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সরাসরি মহকুমায় গিয়ে এই কাজের তদারকি করবেন। এই পদক্ষেপ প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের জনমুখী প্রকল্প নিঃসন্দেহে তৃণমূল সরকারের নির্বাচনী প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি নাগরিকদের কাছে সরাসরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এবং স্থানীয় স্তরের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা।