১৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশ, এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারপতি ললিতের কমিটি

পশ্চিমবঙ্গের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এখন থেকে আর মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যপাল নন, এই ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চূড়ান্ত বাছাই এবং ‘অর্ডার অফ প্রেফারেন্স’ নির্ধারণ করবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইউ. ইউ. ললিতের নেতৃত্বাধীন সিলেকশন কমিটি। বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ আজ এই নির্দেশ জারি করেছে, যা রাজ্যপালের ক্ষমতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
পুরোনো নির্দেশিকা ও নতুন জটিলতা
২০২৪ সালের ৮ই জুলাই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইউ. ইউ. ললিতের নেতৃত্বাধীন সিলেকশন কমিটি উপাচার্য পদপ্রার্থীদের পৃথকভাবে মূল্যায়ন করে একটি তালিকা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সেই তালিকা বিচার করে নিজের ‘অর্ডার অফ প্রেফারেন্স’ রাজ্যপালের কাছে পাঠাবেন। কিন্তু রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাছাই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপ
আজকের শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট এই অচলাবস্থা নিরসনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, বিচারপতি ইউ. ইউ. ললিতের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চই এবার উভয় পক্ষের বক্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে নিরপেক্ষভাবে এই ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ‘অর্ডার অফ প্রেফারেন্স’ তৈরি করবে। বিচারপতি ললিতকে যত দ্রুত সম্ভব এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এক অর্থে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের সরাসরি প্রভাবকে খর্ব করল।
দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাৎক্ষণিক নিয়োগের নির্দেশ
যদিও ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির ভার বিচারপতি ললিতের কমিটির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে আজই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবং কোচবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর চিহ্নিত ‘অর্ডার অফ প্রেফারেন্স’ তালিকার এক নম্বর প্রার্থীকে নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্দেশের ফলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো, যেখানে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।