OMG! স্কুলের দরজায় ঝুলছে কন্ডোম, বারান্দায় নেশার সামগ্রী, ঘটনায় ছড়ালো চাঞ্চল্য

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্র প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ারের যশোডাঙা জুনিয়র বেসিক স্কুলে। শুক্রবার সকালে স্কুল খুলতেই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এক জঘন্য দৃশ্যের সম্মুখীন হন – স্কুলের দরজায় তালাবদ্ধ অবস্থায় ঝুলছে দুটি ব্যবহৃত কন্ডোম, আর বারান্দা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ এবং গাঁজার কল্কে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় লজ্জায় ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষক-অভিভাবক মহল। ঘটনার জেরে এদিন প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় স্কুলের পঠনপাঠন।
যশোডাঙা জুনিয়র বেসিক স্কুলের এই মর্মান্তিক দৃশ্য শুক্রবার সকালে প্রকাশ্যে আসে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমন্ত সিংহ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, তাদের শিক্ষকতা জীবনে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে এর আগে কখনো পড়তে হয়নি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই সরকারি প্রাথমিক স্কুলের বারান্দায় একদল সমাজবিরোধী নেশার আসর বসাত। এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের তরফে একাধিকবার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই প্রতিবাদের বদলা নিতেই স্থানীয় সমাজবিরোধীরা বৃহস্পতিবার রাতে স্কুলের ভেতরে এই চরম অপকর্মটি ঘটিয়েছে। অভিভাবকরা এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জেলা বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক ও উদ্বেগের” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত একটি অভিভাবক সভার আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আইনি সহায়তাও নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক সুমন্ত সিংহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা শুধু একটি স্কুলের সমস্যা নয়, বরং সমাজের অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন আপামর শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।