কলকাতার নিরাপত্তা জালে বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী, ভিসার মেয়াদ ফুরোলেও দেড় বছর ধরে ভারতে!

কলকাতায় এক বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রীকে গ্রেফতার করার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ধৃত শান্তা পালের ভিসা এবং পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল ২০২৩ সালে, অথচ তিনি দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছিলেন। এই ঘটনা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে।

পুলিস সূত্রে খবর, শান্তা পালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসছে। কীভাবে তিনি মেয়াদ উত্তীর্ণ নথি নিয়ে এত দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে থাকতে পারলেন এবং এই সময়ে তাঁর কার্যকলাপ কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনো বড় চক্রের যোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সাধারণত, বিদেশি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দ্রুত তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু একজন মডেল-অভিনেত্রী হয়েও শান্তা পালের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ সময় ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখে ধুলো দেওয়া সম্ভব হলো কীভাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা কলকাতার সীমান্ত সুরক্ষা এবং গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

শান্তা পালের গ্রেফতারি এবং তার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও কারা এই অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অবস্থানের সঙ্গে জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই ঘটনার পর ভারতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের নিয়মকানুন এবং নজরদারি আরও কঠোর করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

আর জি কর কাণ্ডে বিচার চেয়ে উত্তাল কলকাতা: ‘ঝাঁটা হাতে’ সিবিআই দফতর ঘেরাও অভিযান
কলকাতা, ১ আগস্ট, ২০২৫: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পূর্তির মুখে সুবিচারের দাবিতে আবারও উত্তাল হলো কলকাতার রাজপথ। ‘অভয়া মঞ্চ’ এবং ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স’ যৌথভাবে সিজিও কমপ্লেক্স অভিমুখে এক অভিনব প্রতিবাদ মিছিল ও ‘সাফাই অভিযান’ চালায়। হাতে ঝাঁটা নিয়ে প্রতিবাদকারীরা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা এবং তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলেছেন।

এক বছর পরেও ন্যায়বিচার অধরা:

গত বছর ৯ই আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। সেই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়ে জেলবন্দি থাকলেও, এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহত চিকিৎসকের পরিবার এবং নাগরিক সমাজের কাছে বিচার অধরাই রয়ে গেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়ায় অহেতুক বিলম্ব হচ্ছে এবং সিবিআই তদন্তের গতি অত্যন্ত শ্লথ।

প্রতীকী ‘সাফাই অভিযান’:

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিজিও কমপ্লেক্সের দিকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ঝাঁটা নিয়ে ‘তিলোত্তমার বিচার চাই’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। তাদের দাবি ছিল স্পষ্ট: সিবিআই দফতরে ‘সাফাই অভিযান’ করে তদন্তের নামে জমে থাকা ‘ধুলো’ পরিষ্কার করা।

যদিও সিজিও কমপ্লেক্স থেকে সিবিআই দফতর বর্তমানে অন্যত্রে স্থানান্তরিত হয়েছে, তবুও অভয়া মঞ্চের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয়।

সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন:

চিকিৎসক পুণ্যব্রত গুঁই এই প্রসঙ্গে বলেন, “সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেয়নি বলেই টালা থানার ওসি এবং সন্দীপ বেল (জামিন) পেয়েছেন।” তিনি আরও জানান, অভয়ার বাবা-মা দুই মাস আগে দিল্লিতে সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার নাকি অভয়ার বাবা-মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে সঞ্জয় রায়ই দোষী। এই ধরনের মন্তব্য সিবিআই তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আগামী ৯ই আগস্ট আর জি কর কাণ্ডের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অভয়া মঞ্চ বেশ কয়েকটি কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। আজকের এই প্রতীকী ‘সাফাই অভিযান’ সেই কর্মসূচিরই অংশ। এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলি বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এবং নিরপেক্ষ করার দাবি জানাচ্ছে, যাতে নিহত চিকিৎসক অবশেষে সুবিচার পান।