‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না নিলে রাস্তার সংস্কার’- রাজগঞ্জের বিডিও-র বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

রাজগঞ্জের শিকারপুর অঞ্চলের নর্থ বেঙ্গল ফার্ম এলাকার বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দাদের পথ অবরোধ ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজগঞ্জ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) প্রশান্ত বর্মন, কিন্তু তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি বলেন, “১০০ জন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না নিলে ওই টাকা দিয়ে রাস্তা তৈরিতে সময় লাগবে না,” যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি।
ঘটনার সূত্রপাত:
শুক্রবার সকালে নর্থ বেঙ্গল ফার্ম এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। বাধ্য হয়েই তাঁরা পথ অবরোধে নামেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এর কিছুক্ষণ পর বিডিও প্রশান্ত বর্মন সেখানে পৌঁছান।
বিডিও-র মেজাজ হারানো ও বিতর্কিত মন্তব্য:
পথ অবরোধ দেখে বিডিও বর্মনকে শুরুতেই মেজাজ হারাতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর বচসা শুরু হয়। তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আপনাদের জল ফ্রি, ট্যাক্স ফ্রি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, সব পাচ্ছেন, রাস্তাও হবে। ধৈর্য্য ধরতে হবে।” বিডিও-র এই মন্তব্যে প্রতিবাদী মহিলারা তৎক্ষণাৎ জবাব দেন, “আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চাই না। রাস্তা চাই।” এই কথা শুনে বিডিও আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন—”১০০ জন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না নিলে ওই টাকা দিয়ে রাস্তা তৈরিতে সময় লাগবে না।”
রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা:
বিডিও-র এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিজেপি। বিজেপি নেতা নকুল বর্মন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিডিও এখানে বিডিও হিসাবে আসেননি। বিডিও এখানে এসেছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রচার করতে। বিডিও বলছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার টাকা নেওয়া বন্ধ করলে রাস্তা হবে। টাকা কোথায় যাচ্ছে? ট্রাক ট্রাক বালি চলে যাচ্ছে, উনি কিছু জানেন না? এইভাবে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না।” তিনি ইঙ্গিত করেন যে, সরকারি প্রকল্পগুলির অর্থ অন্যত্র অপচয় হচ্ছে এবং বিডিও এই সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
এই ঘটনা সরকারি আধিকারিকদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্প নিয়ে বিডিও-র এমন মন্তব্য স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, এই মন্তব্যের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং নর্থ বেঙ্গল ফার্ম এলাকার রাস্তার দুর্দশা কবে ঘোচে।