পুজোয় ‘টিকিট বিতর্ক’, প্রবেশমূল্য দিয়ে প্রতিমা দর্শন, সর্বজনীনতার প্রশ্নে নতুন ধারা!

দুর্গাপূজা দোরগোড়ায়, আর তার আগেই কলকাতার কয়েকটি বড় পুজো মণ্ডপ এবার এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে: মহালয়ার আগে প্রতিমা দর্শনের জন্য ‘টিকিট সিস্টেম’ চালু করা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে ক্লাবপিছু ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন, সেখানে এই নতুন উদ্যোগ পুজোর ‘সর্বজনীন’ চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কলকাতার দুর্গাপূজা মানেই লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল, বিশেষ করে অষ্টমীর দিন থেকে। ভিড় এড়াতে অনেকেই মহালয়ার আগেই ঠাকুর দেখে নেন। এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই এবার বালিগঞ্জ কালচারাল, দমদম পার্ক ভারতচক্র এবং কেন্দুয়া শান্তি সংঘ—এই তিনটি পুজো মণ্ডপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মহালয়ার পূর্বে অর্থাৎ ১৯, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে ৬টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত প্রতিমা দর্শনের জন্য টিকিট কাটতে হবে। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের এই তিনটি মণ্ডপেই ‘সময় বেঁধে দেওয়া’ টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে কখন মণ্ডপ ফাঁকা থাকবে।

টিকিটের মূল্য নির্ধারণ:

১ জনের জন্য: ১০০ টাকা

২ জনের জন্য: ১৫০ টাকা

৩ জনের জন্য: ২০০ টাকা

৪ জনের জন্য: ৩০০ টাকা

টিকিট অনলাইনেও কাটা যাবে।

বিতর্কের ঝড়:

এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদল মনে করছেন, বিদেশের ফেস্টিভ্যাল বা ইভেন্টের মতো দুর্গাপূজাতেও এমন টিকিট ব্যবস্থা চালু হওয়া উচিত। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল নিজেও আশ্বস্ত করেছেন যে, মহালয়ার পর পুজো সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, শুধুমাত্র ভিড় এড়াতে এবং নির্বিঘ্ন দর্শনের জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা। তাঁর মতে, এটি পুজোর ‘সর্বজনীনতা’ নষ্ট করবে না।

তবে, অনেকেই এই ধারণার তীব্র বিরোধিতা করছেন। শহরের আরেক পুজো উদ্যোক্তা সজল ঘোষের মতে, “পুজোর বারোয়ারি এতে এসেন্স নষ্ট হয়ে যাবে।” তিনি আশঙ্কা করছেন, এর ফলে সমাজে একটি বিভেদ তৈরি হবে – যারা টিকিট কাটতে পারবে, তারা আগে এবং ভিড় কমিয়ে ঠাকুর দেখতে পাবে, আর যারা পারবে না, তাদের ঐতিহ্যবাহী ভিড়ে ঠাসা অভিজ্ঞতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন ব্যবস্থা একদিকে যেমন পুজো কমিটিগুলোর জন্য বাড়তি আয়ের পথ খুলে দেবে, তেমনই ভিড় নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন উপায় হতে পারে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, এবং কলকাতার ‘সর্বজনীন দুর্গোৎসব’-এর পরিচিতি এটি কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এই বছরই প্রথমবার টিকিট কেটে ঠাকুর দেখার এই চল শুরু হওয়ায়, আগামী দিনে অন্যান্য পুজো কমিটিগুলি এই পথে হাঁটবে কিনা, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।