মহকুমা হাসপাতালে শুরু হল বিনামূল্যে সিটি স্ক্যান পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়নে নয়া দিগন্ত

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আজ, ১ অগাস্ট থেকে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে সম্পূর্ণরূপে বিনামূল্যে সিটি স্ক্যান পরিষেবা (Free CT Scan Services) চালু হয়েছে। এটি কেবল পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির হাজার হাজার রোগীর জন্য এক বিশাল সুবিধা নিয়ে এসেছে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মানোন্নয়নে এক বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান, খুশি এলাকাবাসী:

এই অত্যাধুনিক পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং রোগীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দ দেখা গেছে। এতদিন যেখানে সাধারণ মানুষকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সিটি স্ক্যান করাতে হতো, সেখানে এখন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

PPP মডেলে অত্যাধুনিক মেশিন:

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী জানিয়েছেন, এই পরিষেবাটি PPP (Public-Private Partnership) অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলে চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই প্রকল্পের অধীনে হাসপাতালে একটি অত্যাধুনিক ৮০-স্লাইস সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে। এই ধরনের হাই-রেজোলিউশন মেশিন সাধারণত বড় মেডিক্যাল কলেজ বা শুধুমাত্র বেসরকারি স্বাস্থ্য ইউনিটেই দেখা যায়। খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে এটি বসানো রাজ্যের অন্যান্য মহকুমা হাসপাতালের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

দ্রুত রোগ নির্ণয় ও জীবনরক্ষা:

হাসপাতালের সুপার ডাঃ গৌতম মাইতি এই পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই সিটি স্ক্যান পরিষেবা না থাকার ফলে এতদিন বহু আশঙ্কাজনক রোগীকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে রেফার করতে হত। এতে শুধু সময় নষ্টই হতো না, রোগীর শারীরিক অবস্থাও আরও জটিল হয়ে উঠত। এখন এই পরিষেবা চালু হওয়ায় দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে এবং অনেক জীবন বাঁচানো যাবে।”

এই পরিষেবার অংশীদার সংস্থা ‘সুরক্ষা ডায়াগনস্টিকস’। সংস্থার চেয়ারম্যান ডাঃ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের সঙ্গে একত্রে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিচ্ছি। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে প্রতিটি রোগী সর্বোচ্চ মানের পরিষেবা পান।”

সকলের জন্য বিনামূল্যে পরিষেবা:

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরাই নন, আউটডোরে আসা রোগীরাও এই সিটি স্ক্যান সুবিধা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীকে এই পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

দক্ষিণবঙ্গের জন্য আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ:

রাজ্যের খুব কম সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালেই এত উন্নতমানের সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে। খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে এই যন্ত্র স্থাপন নিঃসন্দেহে গোটা দক্ষিণবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্য পরিসেবায় রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ডায়ালিসিস, ব্লাড ট্রান্সফিউশন এবং বেশ কিছু ল্যাব টেস্টের জন্য বিনামূল্যে পরিষেবা চালু করেছে। এবার সেগুলির তালিকায় সিটি স্ক্যান যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশাল সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একজন বলেন, “আমরা খুব খুশি। আগে অনেক সময়, অর্থ এবং দূরত্বের কারণে সিটি স্ক্যান করাতে পারতাম না। এখন এই পরিষেবা হাতের কাছে পাওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে।” স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের এই ধারা রাজ্যের অন্য মহকুমা ও ব্লক হাসপাতালেও ছড়িয়ে পড়বে বলেই এখন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।