আগস্টের শুরুতেই নতুন ঘূর্ণাবর্ত, দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে বৃষ্টি! উত্তরেও কী চলবে দুর্যোগ?

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে এলেও এই স্বস্তি স্থায়ী হচ্ছে না। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ফের রাজ্যে দুর্যোগ আসন্ন। বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত বাড়বে।

সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখা

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণাবর্ত গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৩ কিলোমিটার উচ্চতায় সক্রিয় রয়েছে। মৌসুমি অক্ষরেখা শ্রীগঙ্গানগর থেকে রোহতক, রাঁচি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার প্রভাবে ১ অগাস্ট থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বাড়বে এবং তা ৬ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আজ, ১ অগাস্ট, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বর্ধমান, বীরভূম এবং পুরুলিয়া জেলায় আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। ২ অগাস্ট থেকে দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও দুই বর্ধমানে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। ৩ থেকে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ অব্যাহত

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আজ থেকেই বাড়বে। আজ, ১ অগাস্ট, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইবে। মালদা ও দুই দিনাজপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবে। ২ অগাস্ট শনিবার উত্তরবঙ্গে অতি প্রবল বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ১১০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতার আবহাওয়া

কলকাতায় আজ বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, এবং প্রায় ৯৯ শতাংশ আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি বাড়বে। তবে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আবার বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়বে, যা মঙ্গলবার থেকে কমতে শুরু করবে।

আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, চলতি বছর জুলাই মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালের পর এটি দ্বিতীয়বার যখন এত বেশি বৃষ্টি হল।