বিশেষ: মানুষ কি বহুমাত্রিক উপায়ে পৃথিবী দেখে? -জেনেনিন কি বলছে বিজ্ঞানীরা

মানুষ যখন কিছু দেখে, তখন তার মস্তিষ্ক একইসঙ্গে বেশ কয়েক মাত্রায় চিন্তা করে, শুধু দেখা বস্তুকে শ্রেণিবিন্যাস করে নয়, এমনই উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।

তাক লাগানো এই গবেষণা প্রচলিত ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে বিভিন্ন বস্তু চেনা ও সেগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা মানুষের অনুভূতির মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত, যা অনেকটা কুকুরকে প্রাণী হিসেবে শনাক্ত করার মতো বিষয়।

এ গবেষণায় কাজ করেছেন জার্মানির ‘ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান কগনিটিভ অ্যান্ড ব্রেইন সায়েন্সেস’, ‘জাস্টাস লেইবিগ ইউনিভার্সিটি’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর গবেষকরা। এতে দেখা যায়, এই ধারণা আসলে অসম্পূর্ণ।

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার হিউম্যান বিহেভিয়র’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় মস্তিষ্কের কার্যক্রমের নমুনাও তুলে ধরা হয়, পর্যবেক্ষণ করা কোনো বস্তুকে শুধু শ্রেণিবিন্যাস নয়, বরং বিভিন্ন মাত্রা দিয়েও ব্যাখ্যা করা যায়, যা আচরণগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

এতদিন বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণা ছিল, মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল সিস্টেম বস্তুকে বিভিন্ন মৌলিক বৈশিষ্ট্যে ভেঙে নেয়। এর পর বস্তুটিকে শনাক্ত করতে সেইসব বৈশিষ্ট্য আবারও সমন্বিত করে।

তবে এ গবেষণায় দেখা গেছে, এই বস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়টি এর চেয়েও জটিল প্রক্রিয়ার স্রেফ একটি অংশ।

“আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, শ্রেণিবিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। তবে, কোনো কিছু দেখার ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র পদ্ধতি নয়,” বলেন এ গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ও জাস্টাস লেইবিগ ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক মার্টিন হেবার্ট।

“এই প্রক্রিয়াকরণের সকল পর্যায়ে আচরণগতভাবে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন মাত্রা বিস্তৃত পরিসরে ধারণ করে থাকে আমাদের ভিজ্যুয়াল সিস্টেম।”

এ গবেষণায় গবেষকরা একটি কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে ৬৬টি ভিন্ন মাত্রা শনাক্ত করেছেন, যা উঠে এসেছে ১২ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর আচরণের ওপর ভিত্তি করে। এইসব মাত্রা সহজ শ্রেণিবিন্যাসের চেয়েও বেশি, যেখানে বস্তুর রং, আকার’সহ আরও কিছু সূক্ষ্ম গুণাবলী যেমন একটি কুকুর কতোটা সাধারণ প্রাণীর মতো আচরণ করে, এমন বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে বলে উঠে এসেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজের প্রতিবেদনে।

“ভিজ্যুয়াল সিস্টেমের সকল পর্যায় বিস্তৃত পরিসরে আচরণগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণে অবদান রাখে, যা থেকে আমাদের বোধশক্তি তৈরি হয়,” ব্যাখ্যা করেছেন এ গবেষণার প্রথম লেখক অলিভার কন্তিয়ের।

এর সঙ্গে হেবার্ট আরও যোগ করেন, “আমরা যে পৃথিবীকে বহুমাত্রিক উপায়ে দেখি, আমাদের গবেষণা সে বিষয়টিই তুলে ধরেছে। আর এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের আশপাশের পরিবেশ কীভাবে বুঝি ও এর ভিত্তিতে আচরণ করে থাকি, সেটিও আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে।”