রাস্তায় জমেছিলো জল, বাধ্য হয়ে যাচ্ছিলেন রেললাইনের ওপর দিয়ে! তারপর যা হলো? এক ধাক্কায় শেষ বৃদ্ধের জীবন…

উত্তর ২৪ পরগনার চাঁপাপুকুর স্টেশনে যাওয়ার রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে থাকার কারণে রেললাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে শিয়ালদহগামী লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় এক প্রৌঢ়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম এমাদুল গাজী (৬৫)। তিনি বাদুড়িয়া থানার উত্তর দিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, প্রশাসনিক গাফিলতিকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এমাদুল গাজী চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চাঁপাপুকুর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু প্রবল বর্ষণে স্টেশনে যাওয়ার মূল রাস্তাটি কোমরসমান জলে ডুবে থাকায় নিরুপায় হয়ে তিনি রেললাইন ধরে এগোতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময়েই হাসনাবাদ লোকাল ট্রেনটি দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসে। রেললাইনের পাশে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুরনো ট্রেন এবং কিছু বোল্ডারের কারণে এমাদুল গাজী নিরাপদ জায়গায় সরতে পারেননি। ফলস্বরূপ, ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

খবর পেয়ে জিআরপি (Government Railway Police) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এমাদুল গাজীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বারাসাত রেল মর্গে পাঠায়।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁপাপুকুর স্টেশনে যাওয়ার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে যাত্রীরা বাধ্য হন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন ব্যবহার করতে। স্থানীয়দের দাবি, বহুবার প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। সম্প্রতি রাস্তার কাজ শুরু হলেও তা চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রতিবাদে মুখর স্থানীয়রা এই মৃত্যুকে নিছকই দুর্ঘটনা বলতে নারাজ। তাদের মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক অবহেলা ও গাফিলতির ফল, যার চরম মাশুল গুণতে হলো এক নিরীহ প্রৌঢ়কে। স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে রোজ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে প্রশাসন নির্বিকার। আজ তারই ফল ভুগতে হলো এমাদুল গাজীকে।”

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই মৃত্যু কি অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়াবে এবং স্টেশনে যাওয়ার রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হবে? এলাকাবাসী এখন প্রশাসনের কাছে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।