“অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দুনিয়ার সমর্থন পেয়েছি, কংগ্রেসের পাইনি”-মোদির বক্তব্যে শোরগোল সংসদে

সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভায় বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের অভাবের অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, যখন গোটা বিশ্ব ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, তখন দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থেই জাতীয় ঐক্যের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য তুলে ধরল, তেমনই আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা উস্কে দিল।
সেনাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা: নির্ভীক প্রতিরোধের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পহেলগাঁও হামলার পরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সেই সময় তিনি বিদেশ সফরে থাকলেও হামলার খবর পেয়ে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা সেনার উপর ছেড়ে দেন। তাঁর ভাষায়, “সেনাকে বলেছিলাম, কোথা থেকে, কীভাবে জবাব দেবে, তা তোমরাই ঠিক করো।” এই নির্দেশনার পরই ৬ ও ৭ তারিখে ভারত ‘সঠিক সময়ে সঠিক জবাব’ দেয়, যার পর পাকিস্তান আর কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এটি ভারতীয় সেনার প্রতি সরকারের পূর্ণ আস্থা এবং তাদের সক্ষমতার উপর গভীর বিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয়।
ঐক্যের বার্তা: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশ একজোট
পহেলগাঁও কাণ্ডের বর্বরতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে জঙ্গিরা ধর্ম দেখে দেখে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ঐক্য নষ্ট করার অপচেষ্টা। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে বলেন, “ভারতীয়রা একজোট হয়ে এই ষড়যন্ত্রের জবাব দিয়েছে।” তাঁর এই কথায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মানসিকতা প্রতিফলিত হয়।
‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র দাপট: পাকিস্তানের ‘আইসিইউ’ অবস্থা
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পেছনে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ অস্ত্রের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মেড ইন ইন্ডিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাকিস্তানকে চূর্ণ করে দিয়েছে। পাক বিমান ঘাঁটি আজ আইসিইউতে।” এরপরই পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “মাস্টারমাইন্ডদের জানিয়ে দিয়েছি, ভারত আসবে, মারবে, এবং ফিরে যাবে।” প্রধানমন্ত্রীর এই কথা দেশের সামরিক শক্তির আত্মনির্ভরতা এবং সীমান্তে ভারতের আগ্রাসী প্রতিরোধের ক্ষমতাকে স্পষ্ট করে।
কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা: জাতীয় স্বার্থে বিভেদের অভিযোগ
এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল কংগ্রেসের প্রতি তাঁর তীব্র আক্রমণ। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ভারতের পক্ষে কথা বলার জন্য আমি এসেছি। যারা ভারতের পক্ষ দেখতে পায় না, তাদের সামনে আয়না ধরতেই এসেছি।” তাঁর অভিযোগ, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংকটকালেও কংগ্রেসের মতো দল দেশের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের আচরণ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ছিল।
রাজনৈতিক সমীকরণ: নির্বাচনের আগে কৌশলগত বার্তা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বক্তব্য শুধুমাত্র ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সামরিক সাফল্য তুলে ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২৫-এর সাধারণ নির্বাচনের আগে এটি ছিল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে নিজের রাজনৈতিক জমি আরও সুদৃঢ় করার একটি সুচিন্তিত কৌশল। জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশপ্রেমের ইস্যুতে বিরোধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।