‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কংগ্রেসকে প্রধানমন্ত্রীর তীব্র কটাক্ষ -“শত্রু দেশের হয়ে কাজ করছিল বিরোধী দল”

সংসদে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) নিয়ে নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান এই অভিযান নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচার চালিয়ে গেছে এবং দেশের বিরোধী দলই সেই মিথ্যাগুলোকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, দেশের বিরোধী দল আদতে পড়শি শত্রু দেশের হয়ে কাজ করছিল।

মোদী সংসদে বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশ ভারতকে এই অভিযানে সমর্থন করেছিল। কিন্তু মাত্র তিনটি দেশ পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছিল, যার মধ্যে একটি ছিল কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “দুর্ভাগ্য, সব দেশ ভারতকে সমর্থন করলেও কংগ্রেসের সমর্থন মেলেনি।” প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেসের বক্তব্য ভারতীয় সেনার মনোবল কমিয়ে দিচ্ছিল, কারণ ভারতীয় সেনা বা শক্তির ওপর তাদের ভরসা নেই।

হাত শিবিরকে খোঁচা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিদেশনীতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২২ এপ্রিলের তিন-চার দিন পর কংগ্রেস “৫৬ ইঞ্চি কোথায়” বলে প্রশ্ন তুলে লাফাচ্ছিল। কিন্তু গোটা বিশ্ব যখন ভারতকে সমর্থন করছিল, তখন তাদের আচরণ পাল্টে যায়। পরে তারাই হামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রমাণ চাইছিল। মোদীর কথায়, “খুবই খারাপ বিষয় যে, পাকিস্তানের মতো কংগ্রেস হামলার প্রমাণ চেয়েছে।”

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ইস্যুতেও প্রশ্ন তোলার অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতের কথা মনে করিয়ে মোদী বলেন, “বিরোধীরা কেউ বলে ৩টে স্ট্রাইক করেছিল, কেউ বলে ১৫টা! আসলে যত বড় নেতা, তত বড় দাবি।” পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া বায়ুসেনার পাইলট অভিনন্দন বর্তমানের প্রসঙ্গ টেনে মোদী দাবি করেন, “সেই সময় কংগ্রেস খুব মজা পেয়েছিল। ভেবেছিল টাইট দেওয়া গেছে। সম্প্রতি বিএসএফ জওয়ান পাকড়াও হওয়ার সময়ও লাফিয়েছিল ওরা। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই বুক চওড়া করে ওঁদের ফিরিয়ে এনেছি।”

প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সেনাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে বলেন, “১০০ শতাংশ সফল হয়েছে সেনা। যে ভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেভাবেই হামলা করা হয়েছে। এমন এমন জায়গায় হামলা হয়েছে যেখানে আগে কেউ ঢোকার কল্পনা পর্যন্ত করেনি।” মোদীর সংযোজন, “জঙ্গি আক্রমণ আগেও হয়েছে দেশে। সে সময় জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে নিশ্চিন্ত থাকত। কারণ জানত, পাল্টা আক্রমণ হবে না। বরং তারা পরবর্তী হামলার প্রস্তুতি নিত। আর এখন, জঙ্গিরা ঠিক মতো ঘুমোতে পারে না। কারণ জানে, ভারত আসবে, পাল্টা মেরে চলে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।