নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড, দৃষ্টান্ত স্থাপন বাঁকুড়া আদালতের

দিনের পর দিন এক নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং তাকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত বাসু কালিন্দীকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল বাঁকুড়া জেলা আদালত। এই ঘটনায় বিচারকের রায় সমাজে নারী ও শিশুর সুরক্ষায় এক জোরালো বার্তা দিল বলে মনে করছেন অনেকে।
বাঁকুড়া আদালতের সরকারি আইনজীবী রথীন দে জানান, ঘটনাটি বাঁকুড়া সদর থানা এলাকায় ২০২০ সালে ঘটেছিল। পেশায় রিকশাচালক বাসু কালিন্দী তারই রিকশা মালিকের দশম শ্রেণির এক নাবালিকা কন্যাকে ধর্ষণ করে। অভিযোগ, এরপর ওই রিকশাচালক ব্ল্যাকমেইল করে ওই নাবালিকা ছাত্রীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতে থাকে। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি প্রথমে পরিবারকে বিষয়টি না জানালেও, পরবর্তীতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর ওই নাবালিকা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বাঁকুড়া মহিলা থানায় বাসু কালিন্দীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ পকসো (Protection of Children from Sexual Offences) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে এবং পরের দিনই অভিযুক্ত রিকশাচালক বাসু কালিন্দীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তদন্তকারী পুলিশ আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেয়।
গত পাঁচ বছর ধরে চলা এই মামলায় মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল নিগৃহীতার সন্তানের ডিএনএ রিপোর্ট, যা অভিযুক্ত বাসু কালিন্দীর ডিএনএ-র সঙ্গে মিলে যায়। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বাঁকুড়া জেলা আদালতের বিচারক সৌম্যজিত মুখোপাধ্যায় অভিযুক্ত বাসু কালিন্দীকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আজ, মঙ্গলবার এই মামলার সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে ২০ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় অপরাধীদের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে এবং সমাজে এমন ঘৃণ্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।