বুথ লেভেল অফিসারদের নিয়ে তরজা তুঙ্গে, শুভেন্দুর অভিযোগ বনাম কুণালের পাল্টা আক্রমণ

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) নিয়োগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন— এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেই চিঠির প্রতিলিপি পোস্ট করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন, “অফিসারদের উপর চাপ সৃষ্টি করলে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে কীভাবে? নির্বাচন কমিশনের উপর স্বতন্ত্র সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।” তিনি নির্বাচন কমিশনের স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের কাছে বুথ লেএলওদের তালিকা সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সরবরাহ করার এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বুথ নম্বর সহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে ‘কল্পনাভিত্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, “শুভেন্দু আসলে কল্পনা ভিত্তিক কথা বলছেন। মানুষ কী চায় ওরা বোঝে না। নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন যে, তৃণমূল এই অভিযোগ তোলার পর সুপ্রিম কোর্টও বহু ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে সহমত হয়েছে। কুণাল ঘোষ জোর দিয়ে বলেছেন, “বৈধ ভোটাররা যেন বাদ না যান।” তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যে তালিকাতেই ভোট করুন শুভেন্দুবাবুরা আড়াইশোর বেশি আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।”
শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বাংলায় ভোটার তালিকা পরিমার্জন শুরু হলে লাখ লাখ ‘রোহিঙ্গা’ এবং ‘বাংলাদেশি’র নাম বাদ পড়বে। এদিনও তিনি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “তৃণমূল অনুপ্রবেশকারী আর শরণার্থীদের গুলিয়ে দিচ্ছে। এসআইআর (Special Investigation Report) হলেই নাম বাদ যাবে।”
এছাড়াও শুভেন্দু অধিকারী আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় বিডিও এবং এসডিওরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বসে, স্থায়ী কর্মী থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডারদের বিএলও হিসাবে নিয়োগ করেছেন। এমনকি ২৬ হাজার চাকরিচ্যুত ব্যক্তিকেও কোথাও কোথাও বিএলও হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএলও, এসডিও, ডিএম-রা ভাবছেন আগের মতো হবে। সব ধামাচাপা পড়ে যাবে। কিন্তু ধামাচাপা পড়বে না। আপনাদের প্রতি ঘণ্টার কাজ নজরদারি করছি আমরা।”
তবে, কুণাল ঘোষ শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে পাল্টা বলেছেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন কমিশনকে বুঝতে দিন শুভেন্দু।”
এই ঘটনাপ্রবাহ আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।