লোকসভায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ বিতর্ক, শাহ-অখিলেশ তীব্র বাদানুবাদ, ট্রাম্প প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদের আক্রমণ

লোকসভায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ সংক্রান্ত দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ লক্ষ্য করা গেল। কাশ্মীর উপত্যকায় সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা এবং সরকারের কৌশল নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নবাণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ।
আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় জড়িত তিন জঙ্গিকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ‘অপারেশন মহাদেব’ চালিয়ে খতম করা হয়েছে। শাহ দাবি করেন, সেনা ও সিআরপিএফ জঙ্গিদের “আকা” (প্রধান)-কে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সপা সাংসদ অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তোলেন, “ওদের আকা তো পাকিস্তানে আছে।” অখিলেশের এই মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান শাহ, পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “কে…আপনার কি পাকিস্তানে কথা হয়?” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তীক্ষ্ণ মন্তব্যে বিরোধী সাংসদরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান।
ট্রাম্প প্রসঙ্গ টেনে ডিএমকে-র প্রশ্ন:
এর আগে, ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি আলোচনার সূত্রপাত করে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, কেন ভারতের মতো একটি সার্বভৌম দেশের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের মুখ থেকে শোনা যাবে।
এরপরই কনৌজের সাংসদ অখিলেশ যাদব ‘অপারেশন সিঁদুর’ আলোচনায় যোগ দিয়ে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “কীভাবে সরকার পিছু হটল? সরকারের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার কারণ কী? আমার আশা ছিল যে, সরকার সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করবে। কিন্তু, ওদের বন্ধুত্ব খুব গভীর, তাই ওরা ওদের বন্ধুকে (আমেরিকা) বলল, আপনাদের উচিত শুধু সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা, আমাদের তা প্রয়োজন নেই। আমরা এটা শুধু আপনাদের থেকেই গ্রহণ করব।” তার এই মন্তব্য পরোক্ষভাবে সরকারের কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
“নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কার?” অখিলেশের প্রশ্ন:
অখিলেশ যাদব এরপর জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, “কিন্তু, সবথেকে বড় প্রশ্ন, এই নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কে নেবে? সেই সরকার, যে সরকার দাবি করে যে, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কোনও জঙ্গি হামলা হবে না?”
বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকার ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসার দাবি করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে জঙ্গি হামলা এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছে। লোকসভার এই উত্তপ্ত আলোচনা আগামী দিনে কাশ্মীর নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।