“২২ জুলাই জানতে পারি ওখানে আছে…!”সেনার অভিযানে পেহেলগাঁও হামলাকারী ৩ জঙ্গি নিহত , সংসদে জানালেন শাহ

জম্মু ও কাশ্মীর-এর পহেলগাম হামলার সঙ্গে জড়িত তিন কুখ্যাত জঙ্গিকে সাফল্যের সঙ্গে নিকেশ করেছে ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ এবং জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। এই সফল অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ আজ সংসদে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “পহেলগাম হামলার রাত থেকেই আমরা বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, এই জঙ্গিদের দেশের মাটি থেকে বেরোতে দেওয়া যাবে না।” তিনি জানান, “গত ২২শে মে গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-এর কাছে দাচিগ্রামে এই জঙ্গিদের প্রথম খোঁজ মেলে। তারপর থেকে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চলছিল।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “২২শে জুলাই আমাদের কাছে তথ্য নিশ্চিত হয় যে, জঙ্গিরা সেখানেই আত্মগোপন করে আছে। এরপর আমাদের চারটি প্যারা-ইউনিট অভিযান শুরু করে এবং গতকাল অবশেষে এই তিন জঙ্গি— সুলেইমান, আফগান এবং জিবরানকে নিকেশ করা হয়।”
জঙ্গিদের অবস্থান কীভাবে নিশ্চিত করা গেল, সে বিষয়েও সংসদে বিস্তারিত জানান অমিত শাহ। তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তাদের কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে রেখেছিল। গতকাল সেই সহযোগীদের সাহায্যেই এই জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এই নিহত জঙ্গিরাই পহেলগামে হামলা চালিয়েছিল। তিনি জানান, “বাইসরন ঘাঁটিতে হামলার পর যে খালি গুলির খোল পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলি এই জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বন্দুকের গুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই জঙ্গিদের কাছে থাকা বন্দুক দিয়েই পহেলগামে নিরীহ মানুষদের হত্যা করা হয়েছিল।”
এই জঙ্গিরা যে পাকিস্তানেরই নাগরিক, সেই প্রসঙ্গে অমিত শাহ স্পষ্ট বলেন, “এই তিন জঙ্গির মধ্যে দুজনের পাকিস্তানের ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে। আমাদের কাছে তাদের ভোটার লিস্টের নম্বরও রয়েছে। এমনকি, তাদের কাছ থেকে যে চকোলেট উদ্ধার হয়েছে, সেই চকোলেটও পাকিস্তানে তৈরি।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য পাকিস্তানের মদতে চলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।