পাহাড়ি রেলের নতুন দিগন্ত, পুজোয় দুটি বিশেষ ট্রেন! দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে আসছে ‘ফুললেন সার্ভিস’

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR), যা কেবল একটি ট্রেন নয় বরং জীবন্ত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক, এবার পর্যটকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে। পুজোর আগেই ডিএইচআর চালু করতে চলেছে দুটি বিশেষ ‘ফুললেন সার্ভিস’ ট্রেন, যার নাম ‘Bagheera’s Trail’ এবং ‘Tea & Timber Trail’। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল পর্যটনকে শুধুমাত্র গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম না রেখে, এক অনন্য ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরা।
‘Bagheera’s Trail’: প্রকৃতি, ইতিহাস আর স্বাদের মেলবন্ধন
প্রথম বিশেষ ট্রেন ‘Bagheera’s Trail’ শুরু হবে টং থেকে, যা কার্শিয়াংয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। এই যাত্রা পর্যটকদের চা বাগান, বনের জীবন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির এক সম্মিলিত স্বাদ দেবে।
ঐতিহাসিক আর্কাইভে ভ্রমণ: কার্শিয়াং পৌঁছে পর্যটকরা প্রথমে কার্শিয়াং আর্কাইভ পরিদর্শন করবেন।
বনের গভীরে ট্রেকিং: এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হবে ডাউহিল ফরেস্ট অঞ্চলে, যেখানে প্রায় ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টার একটি রোমাঞ্চকর ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
আদিবাসী ভোজের অভিজ্ঞতা: ট্রেক শেষে, বন দফতরের তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের উপজাতিদের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী খাবার পরিবেশন করা হবে।
সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য: দিন শেষ হবে ফরেস্ট মিউজিয়াম ঘুরে কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত একটি বিশেষ ‘সানসেট চার্টার্ড রাইড’ দিয়ে।
প্রকৃতি, ইতিহাস, এবং খাদ্যের এই অনন্য সংমিশ্রণই ‘Bagheera’s Trail’-কে অন্যান্য ট্রেন যাত্রা থেকে আলাদা করে তুলবে।
‘Tea & Timber Trail’: চা বাগানের গন্ধে এক নতুন রুট
পাহাড়ের রুটের পাশাপাশি সমতলেও ডিএইচআর নতুন রুট চালু করছে। শুকনা থেকে রংটং পর্যন্ত চলবে ‘Tea & Timber Trail’। এই পথে পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করছে রংটং সংলগ্ন চা বাগানগুলির মনোরম দৃশ্য, সুগন্ধ এবং ঐতিহ্য। এই যাত্রায় কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করাই নয়, থাকবে চা উৎপাদনের পদ্ধতি, চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রা এবং স্থানীয় কৃষ্টির বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ। রেলযাত্রার প্রতিটি স্টেশনেই একটি চা অঞ্চলের গভীর পরিচয় তুলে ধরা হবে।
ডিএইচআর-এর নতুন ভাবনা
DHR-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী এই নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, “ডিএইচআর কখনওই নিজেকে শুধুমাত্র পর্যটন শিল্পের বাহক হিসাবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়নি। আমাদের লক্ষ্য স্থানীয় শিল্প, বনজ জীবন এবং মানুষের সঙ্গে মিলে একটি সার্বিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ডিএইচআর-কে নতুন করে চেনার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।”
ইতিমধ্যেই এই দুটি বিশেষ ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া সহ বিস্তারিত তারিখ ঘোষণা করা হবে। উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যকে ট্রেনের জানালায় বসে যতটুকু দেখা যেত, এই ‘ফুললেন সার্ভিস’-এর মাধ্যমে তা আরও নিবিড়ভাবে অনুভব করা যাবে। পাহাড়ি রেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই নতুন গল্প হয়তো ভারতের পর্যটন মানচিত্রে ডিএইচআর-এর নামকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।