শ্রাবণী মেলার মাঝেই দেওঘরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৮ কাঁওয়ার যাত্রীর মৃত্যু

শ্রাবণী মেলার পুণ্যলগ্নে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার সকালে জামুনিয়া গ্রামের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাস ও গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন কাঁওয়ার যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মোহনপুর ব্লকের অন্তর্গত উত্তরমুখী জামুনিয়া নদীর তীরে অবস্থিত এক প্রসিদ্ধ শিব-পার্বতী মন্দিরের কাছে। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন কাঁওয়ার যাত্রী ছিলেন, যারা বাবাধাম অর্থাৎ বৈদ্যনাথ ধামে জল অর্পণ করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই উল্টো দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাক সজোরে বাসটিকে ধাক্কা মারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে বাসটি কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে যাত্রীদের করুণ আর্তনাদ ভেসে আসে, যা এলাকার বাতাস ভারী করে তোলে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং এনডিআরএফ (জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী)-এর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাসের ধ্বংসাবশেষ থেকে জীবিত ও মৃতদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
আহতদের দেওঘর সদর হাসপাতাল এবং নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ চলছে এবং দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেওঘরের সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তিনি ‘এক্স’-এ (আগের টুইটার) পোস্ট করে লিখেছেন, “আমার লোকসভা কেন্দ্র দেওঘরে শ্রাবণ মাসে কাঁওয়ার যাত্রার সময় ১৮ জন ভক্তের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। বাবা বৈদ্যনাথ যেন তাঁদের পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দেন।”
জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকার্য ও আহতদের চিকিৎসার তদারকি করছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে চালকদের গাফিলতির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। শ্রাবণী মেলার পুণ্য উৎসবে এই ধরনের দুর্ঘটনা কাঁওয়ার যাত্রীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।