আলিপুরদুয়ারের সরকারি স্কুলে ‘আনন্দের হাট’, পড়ুয়াদের হাতে ফুড ফেস্টিভ্যাল, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের নয়া উদ্যোগ

সাধারণত সরকারি স্কুলের নাম শুনলে কঠিন পড়াশোনা আর শৃঙ্খলার ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু আলিপুরদুয়ারের ভোলারডাবরীর নেতাজি বিদ্যাপীঠ সেই চিরাচরিত ধারণাকে ভেঙে দেখাল নতুন দিগন্ত। এই বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয়েছে এক অভিনব ফুড ফেস্টিভ্যাল, যেখানে কচিকাঁচারা নিজেদের হাতে রকমারি খাবার তৈরি করছে অপার ভালোবাসা আর আনন্দ নিয়ে।
শিক্ষকদের মতে, এটি ‘আনন্দ পরিসর’ নামক একটি ধারণার বাস্তবায়ন, যা বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ে অবলুপ্তির পথে। ‘আনন্দ পরিসর’ হলো শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তাদের ভালো লাগার বিষয়গুলোকে সম্মান জানানোর একটি মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে।
নেতাজি বিদ্যাপীঠের বেশিরভাগ পড়ুয়া রান্না করতে ভালোবাসে। তাদের এই সুপ্ত প্রতিভা সবার সামনে তুলে ধরার প্রয়াস চালাচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আগুনের সামনে কোনো রান্না করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্কুলের টিফিন শেষের পর ক্লাসগুলি তিন দিনের জন্য বন্ধ রেখে এই ফুড ফেস্টিভ্যাল চলছে। এখানে শিক্ষার্থীরা কেউ তৈরি করছে লস্যি, কেউ ফ্রুট স্যালাড, আবার কেউ বা ভেলপুরী বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক দাস জানান, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই উৎসবে পড়ুয়াদের কাছ থেকে খাবার কিনছেন, যা তাদের আলাদা উৎসাহ যোগাচ্ছে। আমরাও চাই পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জ্ঞান অন্য বিষয়েও বৃদ্ধি পাক।” এই উদ্যোগ একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে শেখার আগ্রহ তৈরি করছে, তেমনই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করছে।
নেতাজি বিদ্যাপীঠের এই অভিনব ফুড ফেস্টিভ্যাল প্রমাণ করে দিল যে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরেও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের অনেক সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগগুলি আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।