ট্রাম্পকে দেখলে মোদির ৫৬ ইঞ্চি ছাতি কমে ৩৬ হয়ে যায়, লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ কল্যাণের

লোকসভায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে দাঁড়ালে মোদীর উচ্চতা কমে পাঁচ ফুট হয়ে যায় এবং তাঁর ‘৫৬ ইঞ্চির ছাতি’ কমে ৩৬ ইঞ্চি হয়ে যায়।
এক সপ্তাহ আগে কলকাতায় ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে, দলীয় সাংসদরা লোকসভায় বাংলায় কথা বলবেন। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্থার প্রতিবাদে তৃণমূলের এই সিদ্ধান্ত। সেই সূত্রেই আজ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা এবং ইংরেজি মিশিয়ে সংসদে তার ভাষণ দেন।
ভাষণের একটি অংশ বাংলায় শুরু করে ইংরেজিতে চলে যান কল্যাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে তিনিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আপনি কেন এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলছেন না মিস্টার ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা? আপনার এত ভয় কীসের! ট্রাম্পকে দেখলে আপনার কী হয় বলুন তো? আপনার উচ্চতা কমে পাঁচ ফুট হয়ে যায়! ৫৬ ইঞ্চির ছাতি কমে হয়ে যায় ৩৬ ইঞ্চি!”
এদিন ২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলা নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন কল্যাণ। তার কথায়, “পহেলগাঁওয়ে ঢুকে চার জঙ্গি ২৬ জন পর্যটককে হত্যার পর কীভাবে পাকিস্তানে ফিরে গেল? আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে ছিল না কেন? প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছিলেন? এত দায়িত্বজ্ঞানহীন স্বরাষ্ট্রকমন্ত্রক আগে কেউ কখনও দেখেনি! প্রধানমন্ত্রীর উচিত দেশের কাছে হাত জড়ো করে ক্ষমা চাওয়া।” জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের এই দাপুটে সাংসদ।
লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার ঠিক একদিন আগে রবিবার উত্তরপাড়ার একটি অনুষ্ঠান থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন কল্যাণ। সেখানে তিনি নরেন্দ্র মোদীর ‘বায়োলজিক্যাল সন্তান নন, স্পিরিচুয়াল সন্তান’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “মা কালীর তো বায়োলজিক্যালি জন্ম হয়নি। মা কালী কি ইন্ডিয়ান সিটিজেন? নাকি শিব বা শ্রীরাম ইন্ডিয়ান সিটিজেন? যদি নরেন্দ্র মোদীর বায়োলজিক্যালি জন্মই না-হয়ে থাকে, তাহলে তো নরেন্দ্র মোদিও ইন্ডিয়ান সিটিজেন নন! কী করে তাঁর নাম ভোটার লিস্টে থাকবে? তাহলে তো তাঁকে পুশব্যাক করে দেব-দেবীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত! অদ্ভুত এক দেশ চলছে!”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও বহুবার নিজের মন্তব্যের জন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। তার আজকের আক্রমণাত্মক বক্তব্য লোকসভায় নতুন করে উত্তাপ ছড়ালো।