পহেলগাঁও হামলা ১০০ দিন পরও অধরা ৫ জঙ্গি, কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা কংগ্রেসের গৌরব গগৈয়ের

পহেলগাঁও হামলার ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িত ৫ জঙ্গিকে এখনও ধরতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে আজ লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। “অপারেশন সিঁদুর” নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যখন বিরোধীদের “জাতীয় আবেগ” নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক তখনই পাল্টা জবাবে সরব হন গগৈ।
গৌরব গগৈ তার বক্তব্যে বলেন, “পহেলগাঁও হামলার পর ১০০ দিন কেটে গেল, কিন্তু এই সরকার ওই ৫ জঙ্গিকে এখনও ধরতে পারল না। আজ আপনাদের কাছে ড্রোন, পেগাসাস, স্যাটেলাইট, সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ আছে এবং কয়েকদিন আগেই সেখানে গিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, কিন্তু তবুও আপনারা তাদের ধরতে পারেননি।” তিনি এই ব্যর্থতার জন্য কেন্দ্রের দুর্বলতাকে দায়ী করেন।
কংগ্রেস সাংসদ পহেলগাঁও হামলার পরের পরিস্থিতি তুলে ধরে সরকারের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যেখানে হামলা হয়েছিল, সেই বৈসারণে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে এক ঘণ্টা লেগে গিয়েছিল। হেঁটে যায় সেনা। আমি সেই ছবিটা ভুলতে পারব না যেখানে, এক মা ও তাঁর মেয়ে এক ভারতীয় জওয়ানকে দেখে কেঁদে ফেলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন যে, বৈসারণে জওয়ানের পোশাক পরা হত্যাকারী জঙ্গি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই জওয়ানকে বলতে হয়েছিল যে তিনি একজন ভারতীয় এবং তাঁরা এখন সুরক্ষিত। সেখানে এই ধরনের আতঙ্ক ভোগ করতে হয়েছে মানুষকে। রাজনাথজি, এই আতঙ্ক নিয়ে আপনার একটু কথা বলা উচিত ছিল।”
সুর চড়িয়ে গৌরব গগৈ আরও বলেন, “শেষে কী দেখা গেল, পহেলগাঁও হামলার দায় কে নিচ্ছেন? জম্মু ও কাশ্মীরের LG। যদি কাউকে দায় নিতে হয়, তাহলে সেটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। LG-র আড়ালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকার লুকিয়ে থাকতে পারে না…এই সরকার এতটাই দুর্বল এবং কাপুরুষ যে তারা বলেছে যে ট্যুর অপারেটররা লোকেদের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই বৈসারণে নিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা এবং পহেলগাঁও পরিদর্শনে না যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন গগৈ। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরব থেকে ফিরে এলেন, কিন্তু তিনি পহেলগাঁও যাননি। উনি সরকারে অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন এবং বিহারে রাজনৈতিক সভায় ভাষণ দিলেন। যদি কেউ পহেলগাঁওয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা আমাদের নেতা রাহুল গান্ধী।” এর মাধ্যমে তিনি হামলার ঘটনায় সরকারের সংবেদনশীলতার অভাব এবং দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যের জবাবে গৌরব গগৈয়ের এই তীক্ষ্ণ আক্রমণ লোকসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দেয় এবং পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষাপটে সরকারের ব্যর্থতাগুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।