নবান্ন অভিযানে পুলিশি বাধা, রাস্তাতেই অবস্থান সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ও গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবিতে নবান্ন অভিযান শুরু করলে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে পুলিশের বাধার মুখে পড়লেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং গ্রুপ ডি-সহ বিভিন্ন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশি ব্যারিকেড পেরিয়ে এগোতে না পেরে সেখানেই রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা, যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আজ সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে নবান্নের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। পথে বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু চাকরিপ্রার্থী ও সরকারি কর্মী এই মিছিলে যোগ দেন। তবে হাওড়ার ফোরশোর রোড সংলগ্ন রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। আগে থেকেই এই এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে পথ বন্ধ করে রেখেছিল পুলিশ প্রশাসন, পাশাপাশি মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী, জলকামান ও র্যাফ।
পুলিশের পক্ষ থেকে মিছিল আটকানোর পরেই আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করছে। যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ এবং জনসুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই অভিযানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। মঙ্গলা হাটের ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও পুলিশ উল্লেখ করে।
দীর্ঘক্ষণ ধরে বাদানুবাদের পর, নবান্নের দিকে এগোতে না পেরে আন্দোলনকারীরা সেখানেই রাস্তায় বসে পড়েন। তাঁদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়, যেখানে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বঞ্চনার প্রতিবাদে স্লোগান লেখা ছিল। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আলোচনায় বসা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।
এই ঘটনার জেরে হাওড়ার বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও অফিসযাত্রীদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একদিকে পুলিশ তাদের অবস্থানে অনড়, অন্যদিকে আন্দোলনকারীরাও তাদের দাবি আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব মিলিয়ে, আজ হাওড়া শহরে সংঘাতের আবহ স্পষ্ট।