বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর “ভাষাগত সন্ত্রাস ও নির্যাতন”- মালদহের ঘটনা তুলে ধরে সরব মুখ্যমন্ত্রী

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন এবং “ভাষাগত সন্ত্রাস” নিয়ে ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহের চাঁচলের পরিযায়ী শ্রমিকদের দিল্লিতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আজ নিজের ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার) হ্যান্ডলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, “দেখুন মালদহের চাঁচলের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের এক শিশু এবং তার মায়ের উপর কী ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। দেখুন এক শিশু পর্যন্ত বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের প্রতি ভাষা সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পায়নি। আমাদের দেশকে ওরা এখন কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলিতে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

সম্প্রতি হরিয়ানায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মালদহের চাঁচলের সাতজন শ্রমিককে হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি থানায় “বাংলাদেশি” সন্দেহে আটক করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁদের শুধু অন্তর্বাস পরিয়ে গাদাগাদি করে আটকে রাখা হয়েছিল এবং থানায় বাথরুম ও অন্যান্য ঘর সাফাইয়ের মতো কাজ করানো হয়েছিল। চাঁচলের কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের আলম আলি এবং তাঁর শ্বশুর আনেসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে গুরুগ্রামে বসবাস করছিলেন। সঠিক নথি দেখানোর পরেও তাঁদের সাতদিন ধরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

এই অমানবিক ঘটনা রাজ্য সরকারের নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে হরিয়ানা পুলিশের কাছে সরকারি বার্তা পাঠানো হয় এবং এর ফলেই শ্রমিকদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেখানকার পুলিশ প্রশাসন।

এই ঘটনাগুলি আবারও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের উপর যেকোনো ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাঁর এই সাম্প্রতিক টুইট সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ইস্যুতে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে বাগযুদ্ধ আরও বাড়বে।