নানুরে মেয়ে নিখোঁজ ও মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, বিজেপির নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী

বীরভূমের নানুরে পর পর একাধিক মেয়ে নিখোঁজ এবং পরবর্তীতে তাদের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সরাসরি রাজ্যের শাসক দল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছে। বিজেপির অভিযোগ, এই ভয়াবহ ঘটনার পরও মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমে “বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের” বাঁচাতে যাচ্ছেন, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিজেপির এই অভিযোগের তীব্রতা বাড়িয়েছেন দলের দুই নেত্রী, ডঃ শতরূপা ও কেয়া ঘোষ। তাঁরা এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা এবং রাজ্য সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ডঃ শতরূপা ও কেয়া ঘোষের কড়া বার্তা:

বিজেপি নেত্রী ডঃ শতরূপা এই ঘটনাকে “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নারী সুরক্ষার স্লোগানের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “বাংলার মেয়েরা কি মমতার কাছে বাঙালি নন? যখন বাংলার মাটিতেই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী কেন সীমান্ত পেরিয়ে আসা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর সুরক্ষায় ব্যস্ত?” তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা চরম সংকটের মুখে।

একই সুরে কথা বলেছেন কেয়া ঘোষ। তিনি বলেন, “নানুরের ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র। বিজেপি বারবার বলেছে, অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্ত রাজ্যের সামাজিক ও অপরাধের মানচিত্রে বড় প্রভাব ফেলছে। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে উদাসীন।” তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি সত্যিই বাংলার মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হন, তাহলে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে, অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্য সরকারের নীরবতা ভাঙা উচিত।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অভিযোগ:

যদিও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির এই অভিযোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং দোষীদের খুঁজে বের করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তারা পাল্টা অভিযোগ করেছে যে বিজেপি এই ধরনের ঘটনাকে “রাজনৈতিক রঙ” দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

নানুরের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।