অনুপ্রবেশ বিতর্কের মধ্যেই তেহট্টে বাংলাদেশি পাচারকারী গ্রেফতার; কলকাতায় জামতাড়া গ্যাংয়ের পর্দাফাঁস, আটক ৪

যখন রাজ্যের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই নদীয়ার তেহট্ট সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশি পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। অন্যদিকে, কলকাতায় একটি বড়সড় আর্থিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস ঘটিয়েছে পুলিশ, যেখানে কুখ্যাত জামতাড়া গ্যাংয়ের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এই দুটি ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তেহট্টে বাংলাদেশি পাচারকারী গ্রেফতার:
শনিবার নদীয়ার তেহট্টর খাঞ্জিপুর বর্ডার আউট পোস্টে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছে জসিম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি পাচারকারী। সূত্র মারফত জানা গেছে, ধৃত জসিম ঢাকার বাসিন্দা। অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন উত্তাল পরিস্থিতি, ঠিক তখনই এই গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তি সম্ভবত সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে যুক্ত এবং তার উদ্দেশ্য নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। এই ঘটনা আবারও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপের বিষয়টি সামনে আনল।

কলকাতায় জামতাড়া গ্যাংয়ের জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৪:
একই দিনে, কলকাতা পুলিশ আর্থিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করে জামতাড়া গ্যাংয়ের এক বড়সড় জালিয়াতির পর্দাফাঁস করেছে। ধৃতরা লেকটাউন ও এন্টালির বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রটি ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল এবং তারা একটি নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে গ্রাহকদের প্রতারিত করত।

প্রতারকরা ব্যাঙ্কের ভুয়ো ওয়েবসাইটে একটি কাস্টমার কেয়ার নম্বর দিত। কোনো গ্রাহক সেই নম্বরে অভিযোগ জানাতে ফোন করলে, তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিঙ্ক পাঠানো হতো। লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যেত। এই চক্রের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

বন্দর এলাকা থেকে ২ জন এবং এন্টালি ও লেকটাউন থেকে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করেছে সাইবার ক্রাইম ও গার্ডেনরিচ থানা। এর আগেও একাধিক সাইবার প্রতারণার ঘটনায় জামতাড়া গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতা এবং জামতাড়া উভয় স্থান থেকেই এই চক্র সক্রিয় ছিল। গ্রেফতার হওয়া ৪ জন ছাড়াও এই জালিয়াতি চক্রে আরও কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে।

এই দুটি ঘটনা একদিকে যেমন সীমান্ত সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে, তেমনই সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান হুমকিকেও স্পষ্ট করছে। সাধারণ মানুষকে অনলাইন লেনদেন এবং অজানা লিঙ্কে ক্লিক করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।