অনলাইন বিনিয়োগের নতুন বিপদ, ইউটিউব বিজ্ঞাপন দেখে কোটি টাকা খোয়ালেন বিধাননগরের মহিলা, গ্রেফতার ২

শেয়ার বাজার হোক বা মিউচুয়াল ফান্ড, সাম্প্রতিককালে বিনিয়োগের প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে। অনেকেই মোটা অঙ্কের লাভের আশায় অর্থ লগ্নি করছেন, কিন্তু সঠিক ধারণা না থাকায় বহু মানুষ প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে ২ কোটি টাকা খুইয়েছেন শহরের এক ব্যক্তি, আর এবার ইউটিউবের একটি বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখে একই ধরনের প্রতারণার শিকার হলেন বিধাননগরের এক মহিলা, যিনি ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন।

এই ঘটনায় গত ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, এবং দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে সাফল্য পেল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাতেই তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ইউটিউবে একটি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে দেওয়া একটি নম্বরে ফোন করেছিলেন। ফোনের ওপারে থাকা এক ব্যক্তি তাঁকে বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক বোঝান এবং একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ শুরু করার পরামর্শ দেন। মহিলা সেই নির্দেশ মেনে বিনিয়োগ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে অ্যাপে তাঁর বিনিয়োগ করা অর্থ সঠিকভাবে দেখানো হলেও, যখন তিনি টাকা তুলতে যান, তখনই সমস্যা শুরু হয়। তাঁকে জানানো হয়, টাকা তোলার জন্য ধাপে ধাপে আরও কিছু অর্থ জমা দিতে হবে। এভাবেই তিনি মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা জমা দেন। কিন্তু এত টাকা জমা দেওয়ার পরেও তিনি তাঁর অর্থ ফেরত পাননি। এরপরই তিনি পুলিশের কাছে যান।

এই ঘটনা আবারও সাধারণ মানুষের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অনলাইন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লোভনীয় অফার এবং চটকদার বিজ্ঞাপনে সহজে প্রলুব্ধ না হয়ে, বিনিয়োগের আগে সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করা অত্যন্ত জরুরি। সাইবার প্রতারকরা নিত্যনতুন কৌশলে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে, তাই প্রতিটি অনলাইন লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

যেকোনো অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে টাকা রাখার আগে তার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন।

অপরিচিত বা অজানা অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকুন।

অতিরিক্ত লাভের লোভনীয় অফারে প্রলুব্ধ হবেন না, কারণ উচ্চ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি প্রায়শই প্রতারণার লক্ষণ।

সন্দেহজনক কোনো লেনদেন বা বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দ্রুত স্থানীয় সাইবার ক্রাইম শাখায় যোগাযোগ করুন।