রাজস্থানে শোকের মাতম, স্কুল দুর্ঘটনায় ১২ বছরের মীনা ও ৬ বছরের ভাইয়ের মৃত্যু, মা বললেন, ‘আমার তো আর কিছুই রইল না’

দু’দিন আগেও যে বাড়ির উঠোনে ভাই-বোনের হাসির শব্দ ভেসে বেড়াত, আজ সেখানে শুধুই শোক আর নিস্তব্ধতা। রাজস্থানের ঝালাওয়ারের এক মর্মান্তিক স্কুল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১২ বছরের মীনা এবং তার ছয় বছরের ভাই। শুক্রবারের এই ঘটনায় গোটা পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, দুই সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মা বলছেন, “ভগবান আমাকে কেন নিয়ে নিলেন না।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা বিলাপ করছেন, “ঈশ্বর যদি আমায় নিয়ে নিতেন! ওদের বাঁচিয়ে রাখতেন! আমার তো আর কিছুই রইল না। আমার তো শুধু এই দুটো সন্তানই ছিল। এখন বাড়ি খালি। আর কেউ উঠোনে খেলবে না।” একজন সন্তানহারা মায়ের এই আকুতি উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। শনিবার সকালে সাতজন শিশুর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে পাঁচজনকে একসঙ্গে দাহ করা হয়েছে।
ঝালাওয়ারের এসআরজি হাসপাতালের মর্গের সামনে শোকস্তব্ধ মায়েদের হাহাকার শুনে আঁতকে উঠেছিল উপস্থিত সকলেই। শিশুদের মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল তখন। কেউ কেউ সন্তানকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরেছিলেন, ছাড়তেই চাইছিলেন না। কেউ আবার নিঃশব্দে বসেছিলেন, তাঁদের চোখ দিয়ে কেবল নীরবে জল ঝরছিল। একজন শোকাহত মা প্রশ্ন তুলেছেন, “শিক্ষকেরা বাইরে কী করছিলেন? কেন তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের ভেতরে রেখে বাইরে গিয়েছিলেন?”
শুক্রবার রাজস্থানে ক্লাস চলাকালীন আচমকাই স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৭ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের কথায়, দুর্ঘটনার আগেই ছাদ থেকে ছোট ছোট পাথরের টুকরো এবং ধুলো পড়তে দেখা গিয়েছিল। তারা অবিলম্বে সেই কথা শিক্ষকদের জানায়। কিন্তু তখন শিক্ষকরা সকালের জলখাবার খাচ্ছিলেন। পড়ুয়াদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষকরা তাদের বকাঝকা করে আবার ক্লাসে গিয়ে বসতে বলেন। অভিযোগ, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পড়ুয়াদের ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। অনেকে পালানোর চেষ্টা করলেও বেশ কয়েকজন ছাত্র ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায়।
এই ঘটনার পরে সংশ্লিষ্ট স্কুলের ৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এর আগেই রাজ্যে সব পুরনো স্কুল ভবনগুলি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। কোথাও সমস্যা থাকলে সে বিষয়ে দ্রুত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি বলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো এবং শিক্ষকদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।