শ্রাবণের সবুজ ছোঁয়া বাংলায়, বিহার-ঝাড়খণ্ডের ঐতিহ্য এখন পুরুলিয়ারও ফ্যাশন ট্রেন্ড!

বিহার-ঝাড়খণ্ডের এক ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আমেজ এবার ঢেউ তুলেছে পশ্চিমবঙ্গেও। শ্রাবণ মাস আসতেই পুরুলিয়ার বাজার থেকে শুরু করে অলিগলিতে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। দোকানে দোকানে উপচে পড়ছে সবুজ কাচের চুড়ির পসরা, আর মহিলাদের হাতে হাতে দেখা যাচ্ছে এই বিশেষ রঙ-এর চুড়ির বাহার। একসময় কেবল বিবাহিত মহিলাদের মধ্যেই সীমিত থাকা এই রীতি, এখন অবিবাহিত তরুণীদের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসে সবুজ চুড়ি পরা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মে এই মাসটি মহাদেবকে উৎসর্গীকৃত। স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং সংসারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনার জন্য মহিলারা এই সময় ব্রত পালন করেন, বিশেষ করে শ্রাবণের সোমবারে সবুজ চুড়ি পরার রীতি প্রচলিত। অনেকেই আবার মাসের প্রথম দিন থেকেই শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস থেকে সবুজ চুড়ি পরে থাকেন। প্রচলিত আছে যে, শ্রাবণ মাসে সবুজ চুড়ি পরলে মহাদেব এবং মাতা পার্বতীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়, কারণ সবুজ রঙকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

পুরুলিয়ার বিভিন্ন বয়সী মহিলারা জানান, এটি এখন কেবল একটি ঐতিহ্য নয়, বরং এটি একটি ফ্যাশনেও পরিণত হয়েছে। শ্রাবণের সবুজ চুড়ি পরা তাদের কাছে এক অন্যরকম অনুভূতি বয়ে আনে।

অন্যদিকে, চুড়ি বিক্রেতারাও এই নতুন ট্রেন্ডে বেশ খুশি। তারা জানাচ্ছেন, শ্রাবণ মাসে সবুজ চুড়ির চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে যায়। আগে যেখানে কেবল বিবাহিত মহিলারাই সবুজ চুড়ির ক্রেতা ছিলেন, এখন স্কুল-কলেজের মেয়েরাও আগ্রহ নিয়ে দোকানে সবুজ চুড়ির খোঁজ করছে। বর্তমানে সবুজ চুড়ির দামও বেশ নাগালের মধ্যেই রয়েছে – কোথাও ২৫ টাকা ডজন, কোথাও ৪০ টাকা আবার কোথাও ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই বিপুল চাহিদা এবং সাশ্রয়ী মূল্য শ্রাবণের সবুজ চুড়িকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে।

বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সীমানাবর্তী হওয়ায় এই দুটি রাজ্যের বহু লোকাচার এবং উৎসবের প্রভাব পুরুলিয়ার সংস্কৃতিতে দেখা যায়। শ্রাবণের এই সবুজ চুড়ির চল তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আধুনিক ফ্যাশনের এক সুন্দর মিশেল ঘটিয়েছে।