মুর্শিদাবাদে ফের রাজনৈতিক খুন! হাসপাতালে মৃত্যু তৃণমূল কর্মীর, কাঠগড়ায় বিজেপি

মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা যেন থামছেই না। দিনদুয়েক আগে ভরতপুরে এক তৃণমূল কর্মীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের পর এবার রেজিনগরে দুষ্কৃতীদের হাতে গুরুতর জখম আরও এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। নিহত ব্যক্তির নাম প্রতীক পাল (৪৩)। তাঁর পরিবার ও তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই তাঁকে নির্মমভাবে খুন করেছে। গতকাল রাতে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রতীক পালের বাড়ি রেজিনগর থানার উত্তর কলোনি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মী প্রতীককে একটি টোটো থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালায়। হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে তাঁর মাথায় ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সেদিন রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েকদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলার পর গতকাল রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই ঘটনায় প্রতীক পালের পরিবারের পক্ষ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে রেজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রেজিনগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না রাজনৈতিক সন্ত্রাস?
মৃতের ভাই পরিতোষ পাল অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার রেশ গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই চলছে। তাঁর দাবি, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাদা ও বাবা, মাকে মারধর করেছিল সাগর বিশ্বাস-সহ কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়।” পরিতোষ আরও জানান, পুলিশ ভেরিফিকেশনে সাগর ঘোষের সরকারি চাকরি আটকে যাওয়ায় বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য প্রতীককে প্রাণে মারার হুমকিও দিয়েছিল। এরপরেই এই ঘটনা ঘটলো।
তবে দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, “যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে তারা আগে বিজেপি করত। এখন তারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।”
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা তথা দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অশোক দাস এই ঘটনাকে বিজেপির সন্ত্রাসের রাজনীতি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ফের সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে। আমরা আইনের পথেই দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বিজেপিকে খুনের রাজনীতি করতে দেব না।”
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।” এই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রেজিনগর এলাকায়। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি নিছকই রাজনৈতিক সংঘাত, নাকি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল? পুলিশের তদন্তের পরেই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।